রাউটারে ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ড ব্যবহারে ধীরগতির হতে পারে ইন্টারনেটের স্পিড

উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকার পরও অনেক সময় ফোন বা ল্যাপটপে কাঙ্ক্ষিত স্পিড পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক দশকে ইন্টারনেটের গড় গতি বাড়লেও ভুল ওয়াই-ফাই ব্যান্ডের ব্যবহারের কারণে ডিভাইসে ভিডিও বাফারিং বা ফাইল ডাউনলোডে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। সংকেত বা ওয়াই-ফাই সিগন্যাল শক্তিশালী দেখালেও এই সমস্যা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হতে পারে রাউটারের ‘ব্যান্ড স্টিয়ারিং’ ফিচারটি। বর্তমানে বেশিরভাগ রাউটারে ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থাকে এবং নতুন মডেলগুলোতে ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডও রয়েছে। ব্যান্ড স্টিয়ারিংয়ের কাজ হলো একাধিক ব্যান্ডকে একই ওয়াই-ফাই নামে যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পছন্দ করা। তবে এটি প্রায়ই সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও ডিভাইসটি ধীরগতির ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে।

২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডটি দেয়াল বা অন্যান্য বাধা ভেদ করতে পারদর্শী হলেও এর গতি কম এবং অন্যান্য ডিভাইসের কারণে সিগন্যালে ব্যাঘাত ঘটে। অন্যদিকে, ৫ গিগাহার্টজ বা ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড অনেক বেশি গতি দিতে সক্ষম হলেও এর কাভারেজ এলাকা বা রেঞ্জ তুলনামূলক কম।

ইন্টারনেটের স্পিড বাড়াতে রাউটারের অ্যাডমিন পেজ গিয়ে ‘ব্যান্ড স্টিয়ারিং’, ‘অটো-ব্যান্ড সিলেকশন’ বা ‘স্মার্ট কানেক্ট’ ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  এতে ২.৪ গিগাহার্টজ ও ৫ গিগাহার্টজের জন্য আলাদা দুটি নাম তৈরি হবে। ফলে ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী স্মার্টফোনে দ্রুতগতির ৫ গিগাহার্টজ এবং স্মার্ট হোম ডিভাইসের জন্য ২.৪ গিগাহার্টজ বেছে নিতে পারবেন।

মাল্টি-লিংক অপারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সঙ্গে একাধিক ব্যান্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এর জন্য রাউটার ও ডিভাইস উভয়টিতেই এই প্রযুক্তি সাপোর্টেড থাকতে হয়। এছাড়া পাশের অন্যান্য ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে একই চ্যানেলে সংঘাত এড়াতে ‘ওয়াই-ফাই অ্যানালাইজার’ অ্যাপের মাধ্যমে কম ভিড় থাকা চ্যানেল (যেমন ২.৪ গিগাহার্টজের ক্ষেত্রে ১, ৬ বা ১১ নম্বর চ্যানেল) ম্যানুয়ালি নির্বাচন করেও ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো সম্ভব।