সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার করার আগে ফেক না আসল যাচাই করবেন যেভাবে

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই নানা খবর প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে। দ্রুত সংবাদ প্রকাশ কিংবা বেশি ভিউ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক সময় তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহজলভ্য হওয়ায় সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। তবে অনেকেই কোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করেই তা বিশ্বাস করেন কিংবা নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করেন অথবা অন্যদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি ভুল তথ্য দ্রুত ভাইরাল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

 পোস্টের উৎস যাচাই করুন

প্রথমে পোস্টটি কে প্রকাশ করেছে, তা দেখুন। কোনো সংবাদমাধ্যম, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি তথ্যটি দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করুন। অ্যাকাউন্টের নাম, ইউজারনেম, অনুসারী সংখ্যা ও আগের পোস্টগুলোও পরীক্ষা করুন। পরিচিত সংবাদমাধ্যমের নাম বা লোগো ব্যবহার করলেই কোনো অ্যাকাউন্ট আসল হয়ে যায় না। নামের বানানে কিংবা লোগোতে সামান্য পরিবর্তন থাকলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নামের পাশে ভেরিফায়েড ব্যাজ দেখে কোনো অ্যাকাউন্টের সব তথ্যকে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অ্যাকাউন্টটি আসল হলেও সেখান থেকে প্রকাশিত প্রতিটি তথ্য সঠিক নাও হতে পারে।

 মূল সূত্র খুঁজে বের করুন

কোনো পোস্টে সংবাদ, গবেষণা, সরকারি ঘোষণা বা পরিসংখ্যানের উল্লেখ থাকলে মূল সূত্র খুঁজে দেখুন। শুধু স্ক্রিনশটের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বা প্রতিষ্ঠানের মূল প্রকাশনা খুঁজে বের করুন। সূত্রের লিংক না থাকলে পোস্টের গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি গুগলে লিখে অনুসন্ধান করতে পারেন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা-ও যাচাই করুন।

প্রকাশের তারিখ ও প্রেক্ষাপট দেখুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো খবর বা ছবি নতুন ঘটনার বলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই পোস্টের প্রকাশের তারিখের পাশাপাশি মূল সংবাদ প্রথম কবে প্রকাশিত হয়েছিল, তা যাচাই করুন। ভিডিওর ক্ষেত্রে ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা বুঝতে সম্পূর্ণ ভিডিও দেখুন। ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা স্থান ও সময়ের সঙ্গে মূল ছবির তথ্য মিলছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি।

ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করুন

কোনো ছবি সত্য হলেও সেটি যে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শেয়ার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুগল লেন্সের মতো রিভার্স ইমেজ সার্চ সুবিধা ব্যবহার করে ছবিটি আগে কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল, তা খুঁজে দেখা যায়। ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের স্ক্রিনশট নিয়েও অনুসন্ধান করা সম্ভব।

ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করুন

কোনো দাবি নিজে যাচাই করতে না পারলে স্নোপস, ফ্যাক্টচেক ডট অর্গ কিংবা রয়টার্স ফ্যাক্ট চেকের মতো ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করুন। দাবিটির মূল শব্দের সঙ্গে ‘ফ্যাক্ট চেক’ লিখে গুগলেও খুঁজতে পারেন।

নিশ্চিত না হলে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন

সব তথ্য যাচাই করার পরও কোনো দাবির সত্যতা নিশ্চিত না হলে সেটি শেয়ার না করাই ভালো। মনে রাখতে হবে, কোনো পোস্টে বেশি লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার থাকলেই তার তথ্য সত্য হয়ে যায় না। বরং নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই তা অন্যদের সাথে শেয়ার করা উচিৎ।