উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমী নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলীয় এলাকায় গভীর নিম্নচাপ আকারে (২১.২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আজ (২৭ জুলাই) সকাল ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কি.মি. পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২২০ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সোমবার (২৭ জুলাই) আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান এটি নিশ্চিত করেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার শঙ্কা নেই, গভীর নিম্নচাপ পর্যন্ত যেতে পারে। এটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে ওড়িশার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে এর প্রভাব দেশের কোস্টাল এরিয়া— খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামে বাতাসের গতি বেশি থাকবে।
গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।