আগস্ট মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। সভায় সভাপতিত্ব করেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগস্টে ঢাকায় ২৮০-৩২০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ৩৪০-৩৮০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৪৮০-৫২০ মিলিমিটার, সিলেটে ৪৫০-৪৯০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ২৪০-২৬০ মিলিমিটার, রংপুরে ৩৫০-৩৯০ মিলিমিটার, খুলনায় ২৬০-৩০০ মিলিমিটার এবং বরিশালে ৩৮০-৪২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ মাসে দেশে ৫ থেকে ৬ দিন বজ্রঝড় হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ১ থেকে ২টি মৃদু (৩৬-৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮-৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
নদ-নদীর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগস্টে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে। মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
কৃষি আবহাওয়া নিয়ে কমিটি জানিয়েছে, আগস্টে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে। এ পরিস্থিতি আমন ধানসহ চলমান কৃষি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেল, জলবায়ু বিশ্লেষণ এবং এল নিনো-লা নিনার বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে জুলাই মাসের আবহাওয়ার পর্যালোচনায় জানানো হয়, সারাদেশে গড়ে ৬৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহ ছাড়া দেশের সব বিভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রামে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫১ শতাংশ, খুলনায় ৫৩ শতাংশ, সিলেটে ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ঢাকায় ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বরিশালে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে দুটি নিম্নচাপে এবং একটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এসব আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ, বজ্রসহ দমকা হাওয়া এবং স্বল্প সময়ের তাপপ্রবাহ দেখা যায়।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৪ জুলাই রংপুরে রেকর্ড করা হয়। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২১ ও ২২ জুলাই সিলেটে রেকর্ড করা হয়। মাসজুড়ে দেশের গড়, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক ছিল।