আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের কোনোটিতেই পানি বিপৎসীমার ওপরে নেই। এর মধ্যে ৩০টি স্টেশনে পানি বেড়েছে, ৯২টিতে কমেছে এবং পাঁচটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে।
উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া আগামী তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজান এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য অববাহিকা ও সংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি স্থিতিশীল
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল ছিল। আগামী এক দিনও তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী চার দিন পানি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা-পদ্মার পানি সমতল কমেছে। আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে এবং আগামী তিন দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারে নজর
গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি সমতল বেড়েছে। তিস্তার পানি কমেছে। তবে আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি বাড়তে পারে এবং পরবর্তী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে পানি উঠতে পারে। বর্তমানে ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে তিস্তার পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ধরলা ও তিস্তার পানি আগামী ৭২ থেকে ১২০ ঘণ্টায় কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। যমুনার পানি আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনে ধারাবাহিকভাবে কয়েক সেন্টিমিটার করে বাড়তে পারে।
ঢাকার নদীতে পানি কমছে
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, টঙ্গীখাল ও ধলেশ্বরী নদীর পানি সমতল কমেছে। আগামী তিন দিনও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে সামান্য ওঠানামা দেখা গেলেও পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকবে।
গঙ্গা-পদ্মায় পানি কমার পূর্বাভাস
গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যায়ক্রমে কমতে পারে। গড়াই ও মাথাভাঙা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে এবং আগামী তিন দিন কমতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী তিন দিনও তা কমতে পারে। জিঞ্জিরাম ও কংসের পানি বেড়েছে, অন্যদিকে সোমেশ্বরী ও ভোগাইয়ের পানি কমেছে। এসব নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে কমতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলোতে ওঠানামা
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফেনীর পানি বাড়তে পারে এবং পরবর্তী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে গোমতী, মুহুরী ও সেলোনিয়ার পানি আগামী তিন দিন কমতে পারে।
হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এদিকে উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বিরাজ করছে। আগামী দুই দিনও স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা থাকতে পারে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলী ও পশুরসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় নদীগুলোতে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পানি ওঠানামা করলেও তা বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকবে।









