বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে, ঔষধ, পোশাক, জ্বালানি, সিরামিক, পাট ও পাটজাত পণ্য, ফার্নিচার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, শিপ বিল্ডিং এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দেশটির ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এক্সপো-২০১৬’ এর দ্বিতীয় দিনে প্যানেল আলোচনায় থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস এ মেলার আয়োজন করেছে।
বিজ্ঞিপ্তিতে জানানো হয়, প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইকনমিক জোন অথিরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান পবণ চৌধুরী। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশে বিনিয়োগে সরকারের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা গুলো তুলে ধরে বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ আহ্বান করেন। অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ড বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল চকেডি কায়োস্যাং বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে থাইল্যান্ডের আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের দি ফেডারেশন অফ থাই ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ছিন ন্যামচেয়ারসিরি বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সেক্রটারি হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রথম প্যানেল ডিসকাশনে বাংলাদেশের ঔষধ উৎপাদনে ক্ষমতা ঔষধের মান ও রফতানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ইনসেফটা ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির, তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা, থাইল্যান্ডে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য তুলে ধরেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক, এ বিষয়ে জয়েন্ট ফরেন চেম্বার অফ কমার্স অফ থাইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্ট্যানলি কং সন্তোষ প্রকাশ করে তৈরি পোশাক সেক্টরে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের এনার্জি পরিস্থিতি সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তুলে ধরেন এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচোলক হুমায়ুন রশিদ। এনার্জি সেক্টরে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন থাইল্যান্ডের ইন্টার ফার ইস্ট উইন্ড ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যান্ড সিইও ড. সুমেত সুতাপুকটি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টরের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে থাই বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
পাট ও পাটজাত পণ্যের চিত্র তুলে ধরেন ক্রিয়েশন প্রা. লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল করীম মুন্না, সিরামিক শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং রফতানির সম্ভাবনা তুলে ধরেন শাইন পুকুর সিরামিকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চিত্র তুলে ধরেন বে টেনারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান এবং শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান চিত্র ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন ওয়েস্টার্ণ মেরিন শিপিয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম।
প্যানেল আলোচনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তারানা হালিম থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন এবং বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় দিনের শেষ প্যানেল ডিসকাসন পর্বে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান কবীর, বাংলাদেশের চা সেক্টরের সম্ভাবনা তুলে ধরেন কাজী অ্যান্ড কাজী টি কোম্পানির পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ, বাংলাদেশের হস্ত শিল্প তুলে ধরেন ণিপুন ক্রাফ্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুর রহমান এবং বাংলাদেশের ফর্নিচার শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাবনা তুলে ধরেন হাতিল ফার্নিচার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আল মামুন।
/এসএনএইচ/








