ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচল সহজ করতে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্পসহ মোট ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, একনেক সভায় ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ৯৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৫৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেগাসিটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু শহরের বিদ্যমান সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিকল্পিত মহানগরীর তুলনায় নিম্নমানের। নগরীর ফুটপাতগুলোও চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ড্রেনের অপ্রতুলতার কারণে মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে ১ হাজার ২৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি আরও আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ২০৪ দশমিক ৮২ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়ন, ২৬৭ দশমিক ২৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১১৯ দশমিক ২৭ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণের পাশাপাশি একটি জিপ, ২টি ডাবল কেবিন পিক-আপ, ১০টি মোটরসাইকেল কেনা হবে। এছাড়া প্রশিক্ষণ, পরামর্শ সেবা, ইউটিলিটি লাইন রিলোকেশন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়, কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার এবং যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ইত্যাদি কেনা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শহরের যানজট নিরসন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ পথচারীদের চলাচল সুবিধা বাড়বে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।
একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো- ১ হাজার ১২৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (প্রথম সংশোধিত), ১১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মিলিটারি ফার্ম আধুনিকায়ন (প্রথম সংশোধিত), ৫৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে হরিশপুর বাইপাস মোড় থেকে বনবেলঘরিয়া বাইপাস মোড় পর্যন্ত নাটোর শহরের প্রধান সড়কের মিডিয়াসহ পেভমেন্ট প্রশস্থকরণ, ৫০৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর ইমপ্লিমেন্টেশন অব গজারিয়া, ৩৫০ মেগাওয়াট কোল ফায়ার্ড থারমাল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প, ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড রক্ষা (২য় পর্যায়) এবং ২৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোবাইল গেইম ও অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প।
/এসএনএইচ/এফএস/








