রমজান উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজের আমদানি বাড়ার ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। এতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩ থেকে ৪ টাকা। শনিবার হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আগে বন্দর দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে দেশের বাজারে চাহিদা বাড়ার ফলে গড়ে প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন: মীর কাসেমের সঙ্গে দেখা করলেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা
জানা গেছে, চলতি মাসের ১১ জুন শনিবার ভারত থেকে ৭১টি ট্রাকে ১ হাজার ৪৩৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, রোববার ৫৮টি ট্রাকে ১ হাজার ১৪৬ টন, সোমবার ৪৮টি ট্রাকে ৯৬৭ টন, মঙ্গলবার ৫৭টি ট্রাকে ১ হাজার ২০০ টন, বুধবার ৪৮টি ট্রাকে ৯৬৭ টন, বৃহস্পতিবার ৫৮টি ট্রাকে ১ হাজার ২২১ টনসহ গত ছয় দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩৪০টি ট্রাকে ৬ হাজার ৯৩৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
এছাড়া, চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৮৪২টি ট্রাকে ১৬ হাজার ৪৪২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৫৫৫টি ট্রাকে ১০ হাজার ৬০৮ টন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৭১৪টি ট্রাকে ১৩ হাজার ৮৮৬ টন, মার্চ মাসে ৮০০ ট্রাকে ১৫ হাজার ৬৪৫ টন, এপ্রিল মাসে ৯৩২টি ট্রাকে ১৮ হাজার ৩৬৬ টন, মে মাসে ১৭৬০টি ট্রাকে ৩৫ হাজার ৫৭৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।
সরেজমিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা পেঁয়াজের গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইন্দো, কানপুর, নাসিক, সুজালপুর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আমদানিকৃত এসব জাতের আকারে ছোট সাইজের পেঁয়াজ প্রতি কেজি পাইকারিতে ( ট্রাক সেল) বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকা। আর এসব জাতের আকারে বড় সাইজের পেঁয়াজগুলো ১১ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহপূর্বে আমদানিকৃত এসব জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৪ টাকা থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
আরও পড়তে পারেন: ১৫ মিনিটের ট্রাফিক পুলিশ শামীম ওসমান!
বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভারত থেকে আমদানি করা এসব পেঁয়াজ খুচরাতে (ছালউঠানো) প্রকারভেদে ৯ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহপূর্বে এসব জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছিল। আর বাজারে দেশি জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলতি মৌসুমে ভারতে ব্যাপকহারে পেঁয়াজের উৎপাদন হওয়ায় পেঁয়াজ রফতানির ক্ষেত্রে ভারত সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম রফতানিমূল্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এতে করে বন্দরের ছোট-বড় সব ধরনের আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানির দিকে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে প্রতি টন পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রমজানের আগে থেকেই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা। এতে করে হিলি স্থলবন্দরসহ দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঁয়াজের দাম খানিকটা কমেছে। দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে তাতে সামনের দিনগুলোতেও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।
/এমও/এমএসএম/








