আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম মুদ্রানীতি।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মঙ্গলবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি জানান, এরই মধ্যে মুদ্রানীতি প্রণয়নের সব কাজ শেষ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ মুদ্রানীতির মতোই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই মুদ্রানীতির ধরণ হবে ‘প্রবৃদ্ধি সহায়ক ও বিনিয়োগবান্ধব’। জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে এই মুদ্রানীতিতে। এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশেরও বেশি প্রাক্কলন করা হতে পারে।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। জুন শেষে তা সাড়ে ১৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সর্বশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার চেয়ে অন্তত ৩ শতাংশ বেশি ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হবে নতুন মুদ্রানীতিতে।
মুদ্রানীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, এই মুদ্রানীতির মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্বাচিত (সিলেকটিভ) খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং রফতানিমুখী, উৎপাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনে আগের চেয়ে বেশি অর্থ বা ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া এলাকাভিত্তিক নারী উদ্যোক্তা ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের অর্থনীতির মূলস্রোতে নিয়ে আসার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে মুদ্রানীতিতে।
আগের মুদ্রানীতিতে ব্যাপক মুদ্রা যোগানের প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ১৫ শতাংশ। এছাড়া রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। নীতিনির্ধারণী সুদ রেপো ও রিভার্স রেপোর হার যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন মুদ্রানীতিতে এক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর দুই বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। একটি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জানুয়ারি মাসে।
সাধারণত মুদ্রার গতিবিধি প্রক্ষেপণ করে এই মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতির অন্যতম কাজগুলো হল-মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা, ঋণের প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ঋণের যোগান ধার্য করা এবং মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণ করা।
আরও পড়ুন-
জঙ্গি তালিকায় নিজের নাম দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুন্না
অবশেষে উত্তরা দিয়ে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান শুরু
/জিএম/এফএস/








