ইলেক্ট্রনিক কর শনাক্তকারী নম্বর (ই-টিআইএন) ছাড়াই দেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাসের বেতন-ভাতা তুলেছেন। যদিও বলা হয়েছিল, ই-টিআইএন ছাড়া জুলাই মাসের বেদন ভাতা পরিশোধ করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের অর্থ বিলে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৯৮ সালের ধারা ৩০ সংশোধন করে এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বেতন-ভাতা বাবদ কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যয় প্রদর্শন প্রবণতা বন্ধ করতে ও কর প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়াতেই এ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র। স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারের এই শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর হলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় আপাতত এটি শিথিল করা হয়েছে। তবে কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের নিয়মানুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে শুধু কর্মীর সংখ্যা ও বেতন স্কেল দাখিল করলেও হতো।
সূত্র জানায়, দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বেতন হিসেবে দেখানো ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফাঁকি দিয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠান বেতন-ভাতার খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দেখিয়ে কর ফাঁকি দেয়। ফলে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে চাকরিজীবীদের করের বোঝা বাড়বে না। যারা করযোগ্য, শুধু তাদের কাছ থেকেই কর আদায় করা হবে। কোনও ব্যক্তি ই-টিআইএন নিবন্ধন করলে তা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এনবিআর চাইলেই যেকোনও ই-টিআইএনের তথ্য পরীক্ষা করতে পারবে। এ পদ্ধতি চালু করা হলে কোনও প্রতিষ্ঠান চাইলেই ভুয়া টিআইএন প্রদর্শন করে ব্যয় দেখাতে পারবে না। ফলে কর ফাঁকির সুযোগ কমে যাবে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যক্তিগত করদাতার সংখ্যা বর্তমান ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখে উন্নীত করার যে লক্ষ্য, তা বাস্তবায়নের জন্য এ পদ্ধতিটি অধিক কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের করযোগ্য মানুষের তুলনায় করদাতার সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় সব চাকরিজীবীর ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো এনবিআরকে বেতন বাবদ ব্যয় দেখানোর সময় ই-টিআইএন নম্বর প্রদর্শন করলে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বচ্ছতা আসবে।
কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে তা প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ বাড়াবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, স্বচ্ছতা আনতেই এটি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জুলাইতে না পারলে আগস্টে হবে। না হলে সেপ্টেম্বরে হবে। এ নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
/এমএনএইচ/
আরও পড়ুন: বাংলা ট্রিবিউন এক্সক্লুসিভ: গুলশান হামলায় বেঁচে যাওয়া ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশের জবানবন্দি








