অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে ফিলিপাইনের আদালতে মামলা করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ফিলিপাইনের আদালতে মামলা করেছে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে শুনানি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ এ তথ্য জানান।
সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, ‘চুরি হওয়া যে টাকা ওই দেশের আদালত জব্দ করেছেন, সেই টাকা ফেরত আনতে ফিলিপাইনের স্থানীয় আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সেখানকার আদালতে আবেদন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশটির ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং যে দেড় কোটি ডলার দেশটির মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কাউন্সিলে জমা দিয়েছেন, সেই টাকা যে আমাদের এটা প্রমাণিত হলেই ওই দেড় কোটি ডলার আমরা পেয়ে যাব।’
দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, ‘ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস সেখানকার আদালতে আমাদের পক্ষে গত ২৬ আগস্ট একটি আবেদন জমা দিয়েছে। আদালত শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করবেন। শুনানি শেষ হলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর সবাই জানে চুরি যাওয়া এই টাকা আমাদের। তবু এই টাকা ফেরত পেতে মামলার কোনও বিকল্প নেই।’
এর আগে গত ৬ আগস্ট ফিলিপাইন সফর শেষ করে দেশে ফিরে দেবপ্রসাদ দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘যে দেড় কোটি ডলার ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের কাছে রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়ে যাবে।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিলিপাইনের স্থানীয় আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংককে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আদালতে এ অর্থ ফেরত আনতে আবেদন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আশা করা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কাটি ডলার আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ফেরত পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’
এদিকে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পেতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ও সুইফটের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে সব পক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর করে এসেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। এর আগে চুরির টাকা ফেরত আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মোট চারবার ফিলিপাইন যান। এ সময় তারা ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস, এন্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিল ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সভায় মিলিত হন। সর্বশেষ ১-৫ আগস্ট ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ এবং যুগ্মপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব ফিলিপাইন সফর করেন। ওই টিমকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ আইনজ্ঞ আজমালুল হোসেন কিউসিও সেখানে গিয়েছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। আর একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। ওই সময় আরসিবিসি ব্যাংকে যাওয়া টাকার একটি বড় অংশ ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে চলে যায়। এর মধ্যে এক ক্যাসিনো মালিক দেড় কোটি ডলার ফিলিপিন্স সরকারের হাতে ফেরত দেন।
/এমএনএইচ/








