কারিগরি জ্ঞানে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার মাধ্যমে শিল্প, সেবা, কৃষিসহ সকলখাতে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যেখানে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এর পরিমাণ ১০ শতাংশের নিচে। এর পরিমাণ বাড়াতে হলে দেশে প্রতিবছর যে বিশ লাখ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে, তাদের পাঠক্রমে সৃজনশীলতা, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক উপজেলায় কারিগরি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। রবিবার জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে ‘টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা অপরিহার্য’শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর এফবিসিসিআই মিলনায়তনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।
প্রধান অথিতির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য মেধাশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকার মেধাসম্পদের উৎকর্ষ সাধনে কারিগরি জ্ঞানসমৃদ্ধ শিক্ষার প্রসার এবং গবেষণা ও উন্নয়নখাতের বিকাশে কাজ করছে। প্রতি উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল ও মহাবিদ্যালয় গড়ে তোলার কাজ চলছে।’ তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল তৈরি না করে কারিগরি জ্ঞানে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে তিনি হালকা-পাতলা, ক্ষিপ্র ও শক্ত কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও আমদানির পরামর্শ দেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনপিও’র পরিচালক অজিত কুমার পাল। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিলর ইঞ্জিনিয়ার এএনএম শহিদুল্লাহ।
সেমিনারে কৃষিসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, এফবিসিসিআই এর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, জাতীয় উৎপাদনশীলতা ও মজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম খান, এফবিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম আলোচনায় অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, শিল্প কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে গবেষণা ও উন্নয়ন (আর অ্যান্ড ডি) খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে শিল্প কারখানায় মালিক সমিতির উদ্যোগে ক্লাস্টারভিত্তিক আর অ্যান্ড ডি সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা জোরদার করতে হবে। বৈশ্বিক সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশ এখনও অনেক নিচে অবস্থান করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
তারা শিল্প কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সফল কারখানার পদ্ধতি অনুসরণের তাগিদ দেন। একইসঙ্গে তারা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার আধুনিকায়ন, আচরণগত পরিবর্তন, আবেগীয় দক্ষতা বৃদ্ধি, কমপ্লায়েন্স এবং মানবাধিকার ইস্যুগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালন উপলক্ষে রবিবার সকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশানাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। এটি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন গেট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও পল্টন মোড় ঘুরে দৈনিক বাংলা হয়ে পুনরায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে এসে শেষ হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় শিল্প মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন সেক্টর-কর্পোরেশন ও সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এপিও সোসাইটি ফর বাংলাদেশ, নাসিব, ট্রেডবডি ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিসহ শিল্প-কারখানার মালিক, শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন।
/এসআই/এমএনএইচ/








