চীনের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের রফতানি ২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আশা করা হচ্ছে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি এক বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্পেশাল ইকনোমিক জোনে চীনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।’ রবিবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দ্বিলীপ বড়ুয়া, বিএনপি নেতা লে. জে মাহবুবুর রহমান, বিএফইউজে’র সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, পিআরআই’এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. সাদেক আহমেদ এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ইআরএফ’র প্রেসিডেন্ট সাইফ ইসলাম দিলাল।
অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে চীন আমাদের বড় বন্ধু। দু’দেশের মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। এ মুহূর্তে চীনে আমাদের বাণিজ্যঘাটতি আছে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে জুলাই-আগস্ট সময়ে চীনে আমাদের রফতানি বেড়েছে। শেষ ৩ মাসে চীনে আমাদের ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আশা করি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চীনে ২ মিলিয়ন ডলার রফতানি করতে পারব। কারণ চীন আমাদের প্রায় ৫০০ প্রডাক্টে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন তৈরি পোশাক শিল্প রিলোকেশন করছে, বাংলাদেশের স্পেশাল ইকনোমিক জোনের উপযুক্ত স্থান হতে পারে। চীনের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রফতানি বৃদ্ধি করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিল্পনায় রফতানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং রফতানি পণ্যসংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন পণ্য রফতানি নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের নীতি মেনে চলছে। রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনার কারণে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। চীন বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক বন্ধু। দু‘দেশের বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য চীনে রফতানি করছে। চীনে রফতানি ধারা অব্যাহত থাকলে এ বাণিজ্য ব্যবধান কমে আসবে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালির মতো চীনও বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রায় পাঁচশত পণ্যের ওপর ডিউটি ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, গার্মেন্টস পল্লিসহ অনেক বড় বড় প্রকল্পে চীন আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্টের আসন্ন বাংলাদেশ সফরে বেশ কিছু এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে এবং বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। বাংলাদেশ সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাদিক আহমেদ বলেন, ‘চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পৃথিবীর মোট অর্থনীতির প্রায় ১৬ শতাংশ। চীন অর্থনৈতিক দিক থেকে ইউএসএকেও ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির রিজার্ভ ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। চীন শুধু রফতানিই করে না, আমদানির ক্ষেত্রেও চীন বৃহত দেশ।’
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্থাপনে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, কারন বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। এখন মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘চীনের আমদানি পণ্য বহুমুখী হলেও আমাদের রফতানি পণ্য বহুমুখী হচ্ছে না। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগের ৯০ শতাংশই হচ্ছে বস্ত্র খাতে। এ বিনিয়োগ বহুমুখী করার সুযোগ রয়েছে।’
সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘অনেকেই বাংলাদেশকে অনেকে খাটো করে দেখে। যেমন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয় বিশ্বব্যাংক। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় এবং চীনের সহযোগিতায় আজ পদ্মা সেতু হচ্ছে।’ এ ছাড়া সমুদ্র অর্থনীতিতেও ( ব্লু ইকোনমি) চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
/এসআই/এমএনএইচ/








