বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির উৎকর্ষ দিন-দিন বাড়ার কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচারের ঘটনাও ঘটছে।’ সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘সার্ক ফাইন্যান্স সেমিনার অন ইমপেক্টস অব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইন দ্য সার্ক রিজন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ক ফাইনান্স বিভাগ আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করে ডেপুটি গর্ভনর আবু হেনা মো. রাজি হাসান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বাকী খলিলি।
সেমিনারে অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও দেশ-বিদেশি মোবাইল ব্যাংকিং-এর বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
গর্ভনর বলেন, ‘২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং খাতে ১০ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক আছে। যার মাত্র ২৫ শতাংশ সক্রিয়। এর মধ্যে বাংলাদেশে ১৮টি ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, ‘বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ৬৮৯ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়; যা ৬ লাখ ৭১ হাজার এজেন্ট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘মোবাইলের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ ও একটি কোম্পানি মোবাইল ফাইন্যান্সিং-এর পুরো সম্পন্ন করার কারণে মোবাইল ফাইন্যান্সিংয়ের অর্জন ম্লান হতে চলছে।’
দিনব্যাপী এই সেমিনারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও উপস্থিত অংশ গ্রহণকারীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অতিরিক্ত খরচ ও ‘বিকাশ’-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন-চতুর্থাংশ লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তৃত্ব কী, সে ব্যাপারেও জানতে চায়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক বাকী খলিলি বলেন, ‘বিকাশের ব্যবসায়িক কৌশল, ব্র্যান্ডিং, অবকাঠামো ও উন্নত নেটওয়ার্কের অন্যদের চেয়ে ভালো।’ তিনি বলেন, ‘এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে হাতে হাতে পাঠানো বা নিজে বহন করার চেয়ে কম খরচ ও কম সময়ে লেনদেন হচ্ছে।’ মোবাইল ফাইন্যান্সিং এর ক্ষেত্রে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে খরচ কম হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সব অঞ্চলের যাতায়াত সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল সেখানে বেশি মোবাইল ফাইন্যান্সিং হচ্ছে।
/জিএম/এমএনএইচ/








