বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিআইডি’র তিনজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ড. আতিউর রহমানের ধানমণ্ডির বাসভবনে এসে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের ডিআইজি মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘রিজার্ভ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে। এটা রুটিন ওয়ার্ক। এর আগেও তার সঙ্গে আমরা কয়েক দফায় কথা বলেছি। এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয় না।’
এ বিষয়ে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্যা নজরুল ইসলামও বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের ধানমণ্ডিস্থ বাসায় গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাবেক গভর্নর ভারত সফর শেষে গতকাল রবিবার রাতে দেশে ফেরেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রায় একমাস তথ্য গোপন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ঘটনার খবর জানতেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জানতেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। এমনকি জানতেন না বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন অর্থমন্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৫ মার্চ গভর্নর পদ থেকে সরে যেতে হয় ড. আতিউর রহমানকে।
এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। সিআইডি জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে দেশি বিদেশি হ্যাকার চক্র জড়িত। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাও এ ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
এদিকে সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও দায়ী করা হয়েছে বলে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
জানা যায়, সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সরানোর চেষ্টা হয়। এর মধ্যে চারটি মেসেজের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) সরিয়ে নেওয়া হয় ৮১ মিলিয়ন ডলার। আরেকটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়। এরপর ফিলিপাইনের একটি আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি দেড় কোটি ডলার ফেরত পায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
/জিএম/এআরআর/টিএন/








