জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেওয়া ‘এভরিথিংস বাট আর্মস (ইবিএ)’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া রফতানির ক্ষেত্রে ডিউটি ও কোটা-ফ্রি সুবিধা বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও আর্থ সামজিক উন্নয়নে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এর ফলে সার্বিক রফতানি, বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি দিন দিন বাড়ছে। এতে কারখানায়, বিশেষ করে নারীদের কাজের সুযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এখন দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হচ্ছে। এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবদান অনেক। বাংলাদেশ তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।
মন্ত্রী মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় হোটেল ল্যা মেরিডিয়ানে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের ট্রেড ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্য মিড-টার্ম ইভালুয়েশন অব দ্য ইইউ’স জিএসপি’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।
এসময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কারখানা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা এখন কর্মবান্ধব পরিবেশে নিরাপদে কাজ করতে পারছেন। বিল্ডিং, ফায়ার সেফটি ও কাজের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৩ সালে অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ও কারখানা মালিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আর কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের অনেক কারখানা এখন গ্রিন ফ্যাক্টরির মর্যাদা পেয়েছে। দেশের সব কারখানাকে গ্রিন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আজকের এ ওয়ার্কশপে আলোচনার মাধ্যমে সেসব সুপারিশ উঠে আসবে, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে কারখানাগুলো ভবিষ্যতে আরও উন্নত করা হবে।’
ওয়ার্কশপে ‘ইভালুয়েশন প্রসেস অ্যান্ড অবজেকটিভস’ সম্পর্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেনটেশন তুলে ধরা হয়। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ‘ইবিএ: বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে ওয়ার্কশপে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন, ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্য বিষয়ক ডিরেক্টর জেনারেল ডানিয়েল কামার, ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের জিএসপি ইভালুয়েশন টিমের প্রধান উইলিয়াম ভান্ডার গেস্ট, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা।
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতসহ উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা ও বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
নতুন ইসির ওপর আস্থা আছে আ.লীগের
নতুন ইসি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে: জাতীয় পার্টি
/এসআই/টিআর/








