'কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন' বা কেপিআই (জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। এছাড়া এই ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিরাপত্তা কর্মীরাও যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। যে কারণে গত ২৩ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদনে।
৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি রবিবার (২ এপ্রিল) ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খানের কাছে জমা দিয়েছে ৫ সদস্যের ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি।
এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা) সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ (রবিবার) বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসাবে মনে করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকটি দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে 'কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন' বা কেপিআই (জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। এছাড়া এই ব্যাংকটির কর্মকর্তা ছাড়াও নিরাপত্তা কর্মীরাও যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি।
এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, আগুন লাগার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম ঠিক ছিল না। আমরা জেনেছি, সেখানে মাঝে মাঝে ফলস অ্যালার্মও দেয়। ২৩ মার্চ আগুনটা লেগেছিল বাংলাদেশ ভবনের পেছনে। তখন বাইরে থেকে লোকজন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা আগুন নেভাতে যান।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগুন লাগার ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বৈদ্যুতিক চায়ের কেটলি শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লেগে থাকতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কমিটির প্রণয়ন করা প্রতিবেদনের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করে রাত ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আগুনের ঘটনার দিনই বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ সদস্য বিশিষ্ট এবং ফায়ার সার্ভিস ৫ সদস্য বিশিষ্ট আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
৩ সদস্যের বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের বড় ধরনের কোনও ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কোনও নথি পুড়ে যায়নি। এতে ওই ফ্লোরের কিছু আসবাব ও মহাব্যবস্থাপকের কক্ষটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলেয়ে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক কেটলির শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে তিনটি কম্পিউটার ও ইউপিএস, একটি করে স্ক্যানার ও ফটোকপি মেশিন, দুইটি প্রিন্টার, টেলিফোন সেট এবং বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাসের কক্ষে থাকা আলমারি পুড়ে গেছে। কয়েকটি চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
/টিএন/








