সঞ্চয়পত্রে কারও পাঁচ লাখ বা তার বেশি টাকা বিনিয়োগ হলেই তাকে পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর (আয় কর)দিতে হবে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা ছাড়াও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। এনবিআরের ওই নির্দেশনার আলোকেই বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নির্দেশনা (প্রজ্ঞাপন) জারি করলো।
ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে,যে তারিখে সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা হবে, সেই তারিখে কারও সঞ্চয়পত্রের পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলেই তার কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটতে হবে।
এর আগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে তাতে উৎসে কর (আয় কর) কাটা যাবে বলে জানিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর কাটা হলেও বন্ডের সুদে কোনোভাবেই এই কর কাটা যাবে না। বন্ডের সুদ হবে পুরোপুরি উৎসে কর মুক্ত। এনবিআর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক প্রজ্ঞাপনে বন্ডে উৎসে কর কর্তন করা যাবে না বলে জানায়। চলতি অর্থবছরেও (২০১৬-১৭) তা স্পষ্ট করা হয়। কিন্তু তারপরও এ বিষয়ে গ্রাহক ও সেবাদাতা কর্তৃপক্ষের মধ্যে ধোঁয়াশা থাকায় এবং এনবিআরের মাঠ অফিসসমূহের জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পরিপত্র জারি করা হলো।
পরিপত্রে বলা হয়, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ডের ওপর সুদ থেকে উৎসে কর (আয়কর) কর্তন করা যাবে না। এসব বন্ড যখনই ক্রয় করা হোক না কেন, এর সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালে উৎসে কর কর্তন করতে হবে না।
এনবিআরের কর নীতি উইং এর দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) রিগ্যান চন্দ্র দে স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,এক বছরে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ বা এককালীন পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ওপর প্রাপ্য সুদ আয়করমুক্ত। তবে পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করলে করদাতার পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ওপর অর্জিত সুদ পরিশোধকালে পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রদান করতে হবে।
/জিএম/ এপিএইচ/








