ঈদ এলেই বড় বড় বিপণিবিতানকে কেন্দ্র করে জাল নোট নিয়ে মাঠে নামে একটি চক্র। আর এ নোট শনাক্তের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা এই চক্রের ফাঁদে পড়েন। তাই অবৈধ কারবারিদের হাত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের রক্ষা করতে গত কয়েক বছর ধরে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ ও আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারেও ঈদের আগে এমন বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ৫৬টি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাল ও অচল নোট প্রতিরোধ ও পর্যালোচনা কোষ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট সম্বলিত ভিডিও চিত্র ব্যাংকের সব শাখা এবং রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় ওই। আগামী ১১ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত এটি প্রচার করতে হবে।
ঢাকাসহ সারাদেশের ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিডিও প্রচারের তারিখ ও স্থান সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়। এই ভিডিও প্রচারের জন্য ৫৬টি ব্যাংককে তারিখও নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলে বা রাস্তার মোড়ে সন্ধ্যা পর কমপক্ষে এক ঘন্টা করে প্রচার করতে হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৬ জুন) পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের বিনোদনের জন্য স্থাপিত টিভিতে ভিডিও চিত্রটি দেখাতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ, প্রদান ও এটিএম বুথে টাকা ফিডিং করার সময় জালনোট সনাক্তকরণ মেশিন দিয়ে নোটগুলো পরীক্ষা করতে হবে।
এছাড়া ব্যাংকের এটিএম মেশিনে টাকা ঢোকানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে নোট নেলদেনের সময়ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দিয়ে পরীক্ষা করতে বলা হয়।
/জিএম/এসএমএ/








