করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নীতিমালা প্রণয়নে সরকার শিগগিরই একটি জাতীয় কাউন্সিল গঠন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। ‘বাংলাদেশে করপোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহে সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম জোরদার’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার (২ আগস্ট) যৌথভাবে এর আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং এসআর এশিয়া বাংলাদেশ।
রাজধানীর ডিসিসিআই ভবনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই নীতিমালা ছাড়া চালু রয়েছে সিএসআর কার্যক্রম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি সিএসআর নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমেধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা, বাণিজ্যিক সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুপারিশমালা গ্রহণ করেছে। এর আলোকে সিএসআর নীতিমালা প্রণয়নে শিগগিরই একটি জাতীয় কাউন্সিল গঠন করবে সরকার।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের কার্যকর অংশগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।’ সেমিনারে তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান। তিনি মনে করেন— এসডিজিতে উল্লেখ করা দারিদ্র বিমোচন, ক্ষুধানিবারণ, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাকে বেগবান করা প্রভৃতি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সিএসআর কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশে সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও এখনও তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি।’
নীতিমালা প্রণয়ন হলে দেশের করপোরেট সংস্থাগুলোতে সিএসআর কার্যক্রম আরও সক্রিয়ভাবে কার্যকর করা যাবে বলে মত দিয়েছেন এসআর এশিয়া বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমাইয়া রশিদ। তিনি জানান, এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে সিএসআর নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সিএসআর কার্যক্রম এখনও প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে এর টেকসই উন্নয়ন ও প্রভাব পর্যালোচনার জন্য সবাইকে আরও মনোযোগী হতে হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম আমানউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘দেশের করপোরেট সংস্থাগুলো সিএসআর কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করলে এর প্রভাব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
/জিএম/জেএইচ/








