তামাক পণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠন বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষে ‘প্রজ্ঞা’র মুশফিকা হায়দার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, এসিডি, ইপসা, প্রত্যাশা, এইড ফাউন্ডেশন, উবিনীগ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বিসিসিপি, টিসিআরসি যৌথভাবে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন শেষে সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি দল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- হেলাল আহমেদ, সৈয়দা অনন্যা রহমান, আমিনুল ইসলাম বকুল, শাহীদা আক্তার, মো. বজলুর রহমান, নাজমুল হায়দার প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে সব তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটে ওপরের অংশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক মুদ্রণে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। কিন্তু বিসিএমএ এর বিরোধিতা করে এনবিআরকে চিঠি দেয়। রাজস্ব হ্রাসের হুমকি দিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলো গত বছর যেমন এনবিআর’কে তাদের পক্ষে এনেছিল, সেই সম্ভাবনা এবারও দেখা দিয়েছে।’
সিগারেটের প্যাকেটের সামনে/পিছনের পরিবর্তে পার্শ্বদেশে লম্বালম্বিভাবে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল লাগিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব জানিয়ে বক্তরা বলেন, ‘এতে একদিকে ২০১৭ সালের স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল নির্দেশনাও মানা হবে অন্যদিকে ২০১৩ সালের আইন ও ২০১৫ সালের বিধিমালার বিধান মেনে প্যাকেটের দু’পাশের পঞ্চাশ ভাগ স্থান জুড়ে ছবিযুক্ত সতর্কবাণী অক্ষত (স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোলে ঢেকে যাওয়া থেকে) রাখা সম্ভবপর হবে। কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এভাবে স্ট্যাম্প লাগানোর বিধান প্রচলিত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ তামাক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। ‘তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩’ ও এর বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী গত ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখ থেকে সব তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়।
/এসআই/এমও/








