২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) চা রফতানিতে রেকর্ড পরিমাণ আয় হয়েছে। অর্থবছর শেষ হওয়ার ১০ মাস আগেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৮ লাখ ডলার বেশি আয় হয়েছে চা রফতানি করে। এই দুই মাসে চা রফতানি করে আয় হয়েছে ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৮৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। এই দুই মাসে চা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। শুধু তাই নয়, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ২ হাজার ৬৭৫ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরে চা রফতানিতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চা’র উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভালো মানের চায়ের রফতানিও বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ মিলিয়ন কেজি বেশি চা উৎপাদন বেশি হয়েছে। ওই অতিরিক্ত চা এখন বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘চায়ের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালো মানের চা বিভিন্ন দেশে পাঠানো যাচ্ছে। এর ফলে চা রফতানি আয়ে রেকর্ড হয়েছে।’ গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যে পরিমাণ চা রফতানি হয়েছিল, এবছর তার চেয়েও অতিরিক্ত আরও এক মিলিয়ন কেজি চা রফতানি হয়েছে।’
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ১৬২টি বাগানে চা উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে আট কোটি কেজি। এসময় চায়ের চাহিদা ছিল ৮ কোটি ১৬ লাখ কেজি। এই হিসাবে চাহিদার চেয়ে চা উৎপাদন বেশি হয়েছে ৩৪ লাখ কেজি। যদিও এই সময়ে একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ চা আমদানি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক সময় এই চা ছিল দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। চা রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশকেই বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে চা আমদানি করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, চা রফতানি করে ১৯৯০ সালে আয় হয়েছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সেখানে ২০১৩ সালে তা কমে দাড়ায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। ২০১৩ সালে চা রফতানি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে আমাদের দেশে খুব বেশি প্রিমিয়াম টি (উন্নত মানের চা) হতো না। এখন অনেকেই প্রিমিয়াম কোয়ালিটির চা উৎপাদন করছে। এই প্রিমিয়াম চা রফতানি বাড়ার কারণে এই খাতে রফতানি আয় এত বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ চায়ের দাম প্রতিকেজি হয়তো দুইশ টাকা। কিন্তু প্রিমিয়াম চা এককেজির দাম পড়ে ২০ হাজার টাকার মতো।’
ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চা রফতানিতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এর মধ্যে প্রথম ২ মাসে আয় হয়েছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।
বর্তমানের দেশের ১৬২টি বাগানে চায়ের উৎপাদন হচ্ছে। এই চা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, কুয়েত, ওমান, সুদান, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চা রফতানি হচ্ছে।
চা বোর্ডের তথ্য মতে, বাংলাদেশ থেকে চা রফতানিতে শীর্ষে রয়েছে ১৯৯০ সাল। ওই বছরে চা রফতানি হয় ২ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার কেজি। তবে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চা রফতানি হয় ২০০২ সালে। ওই বছর বাংলাদেশ থেকে পণ্যটি রফতানি হয় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার কেজি। এরপর ২০০৩ সালে রফতানি কিছুটা কমে ১ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার কেজিতে নেমে আসে। ২০০৪ সালে আবার কিছুটা বেড়ে বাংলাদেশ থেকে চা রফতানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার কেজি। পরে ২০০৯ সাল থেকে চা রফতানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে যায়। ওই বছর রফতানিয়ে হয়েছিল মাত্র ৩১ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা। পরের বছর তা নেমে আসে মাত্র ৯ লাখ ১০ হাজার কেজিতে। ২০১১ সালে ১৪ লাখ ৭০ হাজার কেজি ও ২০১২ সালে ১৫ লাখ কেজি চা রফতানি হলেও ২০১৩ সালে চা রফতানি হয় মাত্র ৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি।








