ডুইং বিজনেস (সহজে ব্যবসা সূচক) ইনডেক্সে বাংলাদেশ আগামী বছর উল্লেখযোগ্য উন্নতি করবে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে সংস্কারকাজ চলছে তার প্রতিফলন আগামী বছর স্পষ্ট হবে। সোমবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, সার্বিকভাবে এদেশের বিনিয়োগ উন্নয়নের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস তারই একটা অংশ। ডুয়িং বিজনেসে আমরা ১৭৬তম অবস্থানে আছি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা এ অবস্থান ৯৯ এর মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের একই জায়গা থেকে বিভিন্ন সেবা দিতে আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়ান-স্টপ সেবা চালু করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের সার্ভিস দিতে চাই। কিন্তু সবগুলো একসঙ্গে হয়তো হবে না। আমরা শুরুতে বড় বড় সার্ভিস যেমন- বিদ্যুৎ, লাইসেন্স, কনস্ট্রাকশন পারমিট এ ধরনের সেবা দেবো। তিনি জানান, অনলাইনে আবেদন করেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসব সেবা নিতে পারবেন ।
‘টেকনিক্যাল ওয়ার্কশপ অন ওয়ান স্টপ শপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার শেষে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের এ বছরের ‘ডুইং বিজনেস রিপোর্ট’ চলতি মাসেই প্রকাশিত হবে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ডুইং বিজনেস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে ৩১ মের আগে করা সংস্কারগুলো বিবেচনায় আসবে।
কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। বলতে গেলে ‘ম্যাসিভ ইনভেস্টমেন্ট দরকার। এজন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ পরিবেশ ও সেবা।’
তিনি বলেন, এতকাল পর্যন্ত এদেশে বিনিয়োগকারীদের একটা অভিযোগ ছিল যে, সার্ভিস পেতে হিমশিম খেতে হয়, ব্যবসায়ীদের অসুবিধায় পড়তে হয়। এ কারণে আমরা এমন একটি ননস্টপ সার্ভিস চাই, যার মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এবং দেশের বিনিয়োগকারীরা সবাই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন, বিনিয়োগের জন্য সেবা পেতে পারেন। সে জন্যই ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে চাই।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে সরকারের ২৬টি মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে যুক্ত করে বিডার মাধ্যমে এই ওয়ান-স্টপ সেবা দেওয়া হবে; যেখান থেকে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের অনুমোদন, বিদ্যুৎ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন।
প্রসঙ্গত, ডুইং বিজনেস সূচকের মাধ্যমে একটি দেশে ব্যবসা করা কতটা সহজ, তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এই তালিকায় ১৮৯টি দেশের মধ্যে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম।







