সিলেবাসের বাইরে ছাত্রছাত্রীদের তেমন জ্ঞান নেই: গভর্নর

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:৫১আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৭:১২

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির (ছবি: নাসিরুল ইসলাম) শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্যবইয়ের বৃত্তেই বন্দি থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, ‘এই সময়ের ছাত্রছাত্রীরা পত্রপত্রিকা পড়ে না। দেশ-বিদেশের খোঁজখবর রাখে না। সিলেবাসের বাইরে এই শিক্ষার্থীদের তেমন কোনও জ্ঞান নেই।’ শনিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক আব্দুল জলিল শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এ বছর মোট ১ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এরমধ্যে জেএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা, এসএসসি উত্তীর্ণদের ১৮ হাজার ও এইচএসসি উত্তীর্ণদের ১৯ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। শুধু ঢাকা বিভাগ  ৪০জন প্রতিবন্ধীসহ ১৬৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে এই শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। প্রথমেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে বৃত্তির চেক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন তিনি। 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

অনুষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ের বাইরে ছাত্রছাত্রীদের পত্রপত্রিকা পড়ে দেশ-বিদেশের খবর জানার পরামর্শ দেন গভর্নর। এ সময় হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘সিলেবাসের বাইরে এই সময়ের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান না থাকায় পাঠ্যবইয়ের বৃত্তেই তারা বন্দি থাকে। এ জন্য অবশ্য ছাত্রছাত্রীরা নয়, দায়ী তাদের অভিভাবকরা। তারাই সন্তানকে পাঠ্যপুস্তকে ব্যস্ত রাখেন। এ কারণে সিলেবাসের বাইরে অন্যকিছু পড়ার সুযোগ হয় না তাদের।’

বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে ফজলে কবির বলেন, ‘আপনারা মেধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটি কারও দয়া বা করুণা নয়। এর মর্যাদা রেখে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে হবে আপনাদের।’

বাংলাদেশ যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্যমী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন ফজলে কবির। তিনি বলেন,  ‘চলতি বছরের শুরুতে দেশের হাওর অঞ্চলে ও মধ্যাঞ্চলে ৩২টি জেলার বন্যা মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ। সবশেষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করছে। তবে রোহিঙ্গা সমস্যা সরকারের একার নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব।’ 

দেশের ব্যাংকগুলোকে করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) তহবিল বাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান গভর্নর। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ঠিক রেখে অন্য খাতের ব্যয় কমিয়ে ব্যাংকগুলো শরণার্থীদের পাশে এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি। মার্কেন্টাইল ব্যাংক আব্দুল জলিল শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদুল আহসান। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল জলিলের চাওয়া ছিল মার্কেন্টাইল হবে বাংলার ব্যাংক। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেকটা সফল হয়েছি। তিনি নিয়মতি প্রকৃত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা বলতেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংক সেই জায়গায় যেতে পেরেছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নিয়মকানুন মেনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পরিচালিত হয় জেনে প্রশংসা করেন গভর্নর ফজলে কবির। তিনি মনে করেন, ‘ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে।’ এ সময় আরও ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাহিদ রেজা ও ব্যাংকটির এমডি ও সিইও কাজী মসিহুর রহমান প্রমুখ। 

/এসআই/জেএইচ/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক