বিশ্বব্যাংকের জিডিপির পূর্বাভাসকে পাত্তা দিতে চান না বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মুহাম্মদ ফরাস উদ্দিন। তিনি বুধবার (১০ জানুয়ারি)বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক জিডিপির পূর্বাভাস সব সময়ই কম করে বলে থাকে। আমার মনে হয় না যে, তাদের (বিশ্বব্যাংকের) পূর্বাভাস ঠিক আছে। এবং তারা কিন্তু তাদের পূর্বাভাস পরিবর্তন করে। গত কয়েক বছর ধরে তারা প্রথমে একটা বলে, পড়ে আরেকটা বলে। শেষে গিয়ে সরকার যেটা বলে, সেইটাই তারা নেয়।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক ৬ দশমিক ৮ শতাংশের কথা বলেছিল। প্রথমে তারা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছিল। তারপর বলেছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, তারপর তারা ৬ দশমিক ৮ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ কারণে তাদের এই পূর্বাভাসে কোনও কিছু আসে যায় না।’
মুহাম্মদ ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাসে যা-ই বলুক না কেন, আমাদের হয়তো একটু রিকভার করতে হবে, আগাম বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির কারণে। তবে সাধারণত বন্যার পরে উৎপাদন বাড়ে, পলিমাটি আসার কারণে। এ জন্য আমাদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অর্থবছর শেষে ৭ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছিতেই থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছরেও বিশ্বব্যাংক ৬ দশমিক ৪ শতাংশ দিয়েই শুরু করেছিল। এবারও তাই করছে। পাশাপাশি দেশের কিছু বিশেষজ্ঞ কম হওয়ার কথা বলেছেন। এটা সরকারের সঙ্গে তাদের বৈরী সম্পর্কের কারণে বলে থাকেন।’
তিনি বলেন, ‘আগামী এপ্রিল মাসের পর দেশের গ্যাসের কোনও সমস্যা থাকবে না। আগস্টের পর বিদ্যুতের কোনও সমস্যা থাকবে না। রেমিটেন্সের সমস্যা কেটে যাচ্ছে। রফতানিও বাড়ছে।’
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগ কমবে। একইসঙ্গে কমবে বিনিয়োগও। ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমবে বাংলাদেশের।’
অবশ্য সংস্থাটির আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বরাবরই বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের হিসাবের চেয়ে একটু কমিয়ে পূবার্ভাস দেয়। এটা তাদের মতো করে তারা দেয়। অর্থবছর শেষ হলে আবার ঠিকটাও দেয়। যেমনটি হয়েছে গত অর্থবছরে। এ কারণে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। দেশে এমন কিছু ঘটেনি যে, একশতাংশ প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।’
এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
আর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব বলছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন। সরকার ওই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ০.৮ শতাংশ বেশি অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছর চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার বা ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় একদশক ধরে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বৃত্তে আটকে ছিল। প্রথমবারের মতো ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবদ্ধি ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে ৭ শতাংশ অর্জিত হয়। ওই বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। আর গত অর্থবছর তা বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।








