দেশে অসমতা ক্রমেই বাড়ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে সুযোগের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে হবে। মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভাবতে হবে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে নিয়ে।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘গণমানুষের কণ্ঠস্বরঃ বাংলাদেশে ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য রাখেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আবদুস সালাম। পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরি ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিক্সের শিক্ষক ড. তৌহীদ রেজা নুর।
সেমিনারে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘পিকেএসএফ সব কর্মসূচি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিন্যাস করেছে।’
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এসডিজির লক্ষ্য হলো ১৬৯টি। সরকার সবগুলো সমভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না সম্পদের কারণে। তাই সরকার প্রাথমিকভাবে ৩৯টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই করা হয়েছে। এসডিজি শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের বিষয় নয়, দেশের সব অঞ্চলে বাস্তবায়নের ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।’ আগামী মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
ড. মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘এসডিজির ১০ নম্বর অভীষ্ঠ সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যতা ও অসমতা দূর করা। আমাদের সুযোগের অসমতা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে বৈষম্য বাড়ছে। এই বৈষম্যটা বহুমাত্রিক। তবে শহরের চেয়ে গ্রামে এটি বেশি।’
ড. তৌহীদ রেজা নূর টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৮-এর ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের একটি অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান ও পরিপূর্ণ কর্মপরিবেশ। তিনি বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্যের নানা দিক তুলে ধরেন। বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের জন্য প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ দুটি প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘অসমতা দূর করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনজিওগুলো তাদের কাজের বিন্যাস ঘটাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটা কীভাবে বাড়াবো তা ঠিক করতে হবে। মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়া সাজাতে হবে। ধনীদের নিয়ে ভাবনার দরকার নেই। ভাবতে হবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে। বাস্তবভিত্তিক ও মানুষকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিতে হবে এবং একই সঙ্গে আমিত্ব থেকে বের হয়ে বহুত্বের দিকে যেতে হবে উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক ও নৈতিকতা উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’








