আজ জাতীয় পাট দিবস

সোনালি আঁশের সম্ভাবনা বিকশিত করতে চায় সরকার

শফিকুল ইসলাম
০৬ মার্চ ২০১৮, ০৭:৪৫আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৮, ১৫:১০

বাংলার পাট, বিশ্ব মাত। এই স্লোগানে পাটের বহুমুখী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। পাটের গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ৬ মার্চ মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস। ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রতি বছর ৬ মার্চ ‘জাতীয় পাট দিবস’ পালনের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

সোনালি আঁশের সম্ভাবনা বিকশিত করতে চায় সরকার সরকার এবারের পাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘সোনালী আশেঁর সোনার দেশ’। সরকার সোনালি আঁশের সম্ভাবনা বিকশিত করতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে এর মধ্যে রয়েছে- এ খাতে গবেষণা বাড়ানো, নতুন পাটনীতি প্রণয়ন, জুটমিল করপোরেশনকে সংস্কারের আওতায় আনা। একদিকে দেশে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং অন্যদিকে রফতানি বাড়ানোও সরকারের লক্ষ্য। সব মিলে এ খাতের বিশাল বাজার তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার। মানসম্মত পাট উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ বাড়াতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণে নগদ সহায়তাও বাড়ানো হয়েছে। রফতানিমুখী পাটপণ্য বহুমুখীকরণে নগদ সহায়তা আগের তুলনায় বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৯ দশমিক ৬২ লাখ বেল পাট ও পাটজাত দ্রব্য রফতানি করে। এ থেকে আয় হয় ৭ হাজার ২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এটি গত অর্থবছরের তুলনায় ৮৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি। দেশে মোট কাঁচা পাট উৎপাদনের পরিমাণ ৮০ থেকে ৮৫ লাখ বেল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা হচ্ছে ৬৩ লাখ বেল, যা মোট উৎপাদনের ৭৫ শতাংশ। পাশাপাশি বছরে ১২ লাখ বেল কাঁচা পাট বিদেশে রফতানি হচ্ছে। অবশিষ্ট ৭ থেকে ১০ লাখ বেল পাট ব্যবহার হচ্ছে গৃহস্থালি কাজে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এই ৭ মাসে কাঁচা পাট রফতানিতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। পাট সুতা ও কুণ্ডলী রফতানিতে আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। পাটের বস্তা ও ব্যাগ রফতানি হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের। পাটজাত অন্যান্য পণ্য থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩ লাখ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা সত্ত্বেও উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণ স্বল্পতার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। নানা সীমাবদ্ধতার পরও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ ডলার। এটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বেলজিয়াম, বেনিন, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কঙ্গো, কোস্টারিকা, মিসর, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, সুদান, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাইওয়ান, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, উগান্ডা, গুয়েতেমালা, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম,  ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ইথিওপিয়া, গাম্বিয়া, জার্মানি, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, গুয়েতেমালা, হাইতি, ভারত, আয়ারল্যান্ড, ইরান, জাপান, জর্ডান, কোরিয়া, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, মিয়ানমার, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, পোল্যান্ডে পাট ও পাটপণ্য রফতানি হয়।

দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে মোট ২২টি পাটকল চালু রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে প্রায় ২০০টি পাটকল আছে।

সংসদের এক অধিবেশনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত বিজেএমসি’র পাটকলগুলো গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন করেছে। বিজেএমসি’র লোকসান প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বছর বিজেএমসির লোকসান ১৮০ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বিজেএমসি রাষ্ট্রের ‘ডিজেবল’ সন্তান। আর এ কারণেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিশেষ নজর রাখছে।”

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে সরকার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় একীভূত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে পাট শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত আগের সব আদেশ বাতিল করে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট পাট বিষয়ক একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘সরকার দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সোনালি আঁশ পাটের সম্ভাবনাগুলো বিকশিত করতে চায়। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য পাট সংশ্লিষ্ট সব উদ্যোগকে সমন্বিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার পাট দিবস উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।’

জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৬ মার্চ) বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তিন দিনব্যাপী পাটপণ্য মেলাও উদ্বোধন করবেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো সাজানো হয়েছে। ৮ মার্চ পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।

/এমপি/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম