বাংলাদেশে পণ্য রফতানি ক্ষেত্রে দ্বৈতকর নীতি (ডাবল ট্যাক্স সিসটেম) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) হংকংয়ের হোটেল শেরাটন এইচকে’তে প্রাইম সোর্স ফোরাম আয়োজিত দুইদিনব্যাপী ‘দি গ্লোবাল ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইকোনমিক অপরচুনিটিস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক ‘১৩তম প্রাইম সোর্স ফোরাম’ এ মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিগত যেকোনও সময়ের তুলনায় অনুকূলে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন শতভাগ বিনিয়োগ করতে পারবেন, প্রয়োজনে বিনিয়োগকৃত শতভাগ অর্থ এবং লাভ ফিরিয়ে নিতে পারবেন।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ। এসময় মোট রফতানির পরিমান দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, রেমিটেন্স আসছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশের রফতানির প্রায় ৮১ ভাগ আসে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে। জিডিপিতে এ সেক্টরের অবদান প্রায় ১৩ ভাগ। এ শিল্পে জনবল প্রায় ৫০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগই নারী। ইউএসগ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল স্বীকৃত ৬৭টি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে। নিবন্ধিত রয়েছে আরও ২২০টি। এবার ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল যে ১০টি তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরিকে এনার্জি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি) সার্টিফিকেট দিয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের ৭টি রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখলকারী প্রতিষ্ঠান তিনটিও বাংলাদেশের। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এখন শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ শুধু ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশই হবে না, বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। ডেভলপিং কান্ট্রিতে পরিণত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয় তা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় দেশ। দেশের ৮৯ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে, শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে বেশি সময় প্রয়োজন হবে না। ২০৪০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ২৮তম অর্থনীতি এবং ২০৫০ সালে ২২তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।’
ফোরামে যোগ দিতে বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল (৭ মার্চ) বুধবার গভীর রাতে হংকংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। আগামীকাল (৯ মার্চ) শুক্রবার মন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।








