ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ে নৈতিকতার প্রশিক্ষণ জরুরি: ড. খলীকুজ্জমান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ মার্চ ২০১৮, ২১:১৪আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৮, ২১:২৪

অনুষ্ঠানে ড. খলীকুজ্জমান আহমদসহ অন্যরা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সর্বত্র নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে। আজ নয়, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নৈতিকতার অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজের স্বার্থে আইন-নিয়মনীতি এবং বিধিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের নৈতিকতার বড় স্খলন হয়েছে। এ কারণে হল-মার্ক এবং বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকের স্বার্থের পরিবর্তে নিজ স্বার্থে এসব লোক কাজ করায় ব্যাংক এবং অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে।’

শনিবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ১৭তম নুরুল মতিন মেমোরিয়াল লেকচার ‘এথিকস ইন ব্যাংকিং’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম’র গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতার চর্চার জন্য এ ধরনের মেমোরিয়াল লেকচার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক।

মূল প্রবন্ধে খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘নৈতিকতার উন্নয়নে এবং ব্যাংকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি আরও কঠোরতর করার প্রয়োজন রয়েছে। কোনও ঘটনা ঘটলে তা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। বড় বড় যেসব ঘটনা ঘটেছে, এগুলো বিচারের আওতায় আনতে হবে। এসব ঘটনা প্রশ্রয় দিলে ব্যাংকিং খাতে আরও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটবে। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।’

২০০৯ সালে একুশে পদক পাওয়া এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নৈতিকতার বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দরকার। ওপরের দিকে বোর্ডের সদস্যদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে বছরে একবার হলেও আলোচনায় বসানো যেতে পারে। ব্যাংকের নৈতিকতা চর্চা এবং গলদ নিয়ে এ রকম অনুষ্ঠানেও বিশদভাবে বহুমুখী আলোচনা হতে পারে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সচেতনতা বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে আরও একটি কাজ করা যেতে পারে। সব কর্মকর্তাকে বিশেষ করে মধ্য থেকে নিচের দিকের যারা আছেন, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণের মডিউল প্রযুক্তিভিত্তিক হলে কার্যকর বেশি হবে। এখানে নৈতিকতা কী, দেশ-বিদেশের উদাহরণ ভিডিওর মাধ্যমে সবাইকে অবগত করানো দরকার। এ মডিউলটা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হবে। এতে সৎপথে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে প্রবেশনারি কর্মকর্তাদের চাকরি জীবনের শুরু থেকে নৈতিকতার গুণাবলী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি করতে পারলে এসব নবীন কর্মকর্তা চাকরি জীবনে অনৈতিক কাজ করার অভ্যাস থেকে মুক্ত হওয়ার প্রয়াস নিতে পারবে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এ ধরনের নৈতিকতার প্রচারণার প্রচলন শুরু করেছে। এ কারণে পিকেএসএফের অংশীদারদের মধ্যে মাদকের ব্যবহার, বাল্যবিবাহ এবং মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সহযোগিতায় সবসময়ই ঋণখেলাপি, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। ব্যাংকিং খাত যাতে আইন-কানুনের মধ্যে থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালিত হয়, তার সার্বক্ষণিক তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের সব সংস্থা মিলে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রভাবশালী, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকিং খাতের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাবে।’ ফজলে কবির বলেন, ‘অনৈতিক চর্চাগুলো দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আজকের মেমোরিয়াল লেকচারের মাধ্যমে তরুণ ব্যাংকাররা সততা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং ব্যাংকিং খাতে আরও পেশদারিত্বের দিকে অগ্রসর হবেন।’

এ. এফ. এম. নুরুল মতিন ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালে তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের গবেষণা বিভাগে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৩ সালে তার চাকরি ওই ব্যাংকের অপারেশন বিভাগে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ ব্যাংকিং জীবনে তিনি স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানে নির্বাহী পরিচালক, ইক্যুইটি পার্টিসিপেশন ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ বহু শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিআইবিএমের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিআইবিএমের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনালাইজেশন অর্ডার-১৯৭২ প্রণয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সত্তর দশক এবং পরে ব্যাংকিং খাতের উন্নতির জন্য নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তার অবদান উচ্চমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ১৯৭৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

 

 

জিএম/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম