ব্যাংকিং খাতে চলমান অরাজকতার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার অভাব ও অক্ষমতাকে দায়ী করেছে বেসরকারি অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। বুধবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান একথা জানান।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি যে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সঠিক উপায়ে নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি মেকিংয়ের ইউনিট আছে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, এখানে আমরা কিন্তু তা দেখিনি। এই ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বাংলাদেশ ব্যাংকে বসে। কিন্তু তা হয়নি, যা আশ্চর্যের বিষয়।’
সিদ্ধান্ত দু’টি ব্যাংক খাতে অরাজকতা বৃদ্ধি করবে মন্তব্য করে সানেমের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা এক মূল্যায়নে দেখেছি, ব্যাংকিং খাতের অদক্ষতা বর্তমান যে পর্যায়ে তাতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ মোট জিডিপির ১ শতাংশ, যা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। বর্তমান সময়ে অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে আমরা দেখছি, বাংলাদেশ ব্যাংককে বাইপাস করে। এটা কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক একটা সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’ নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি ‘ভুল’ এবং তা ‘রং সিগন্যাল’ দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এ অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, “২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরে একটার পর একটা ‘স্ক্যাম’ হচ্ছে, আমানতকারীরা এখন ব্যাংকে টাকা রাখতে বিশ্বাস পাচ্ছে না। ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, অনাদায়ী ঋণ সামনের দিনগুলিতে আরও বাড়বে। এটার বড় কারণ হচ্ছে, ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং যারা ঋণ খেলাপি হচ্ছে তাদের কোনও শাস্তি হচ্ছে না।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ জমা রাখার হার (সিআরআর) কমানো এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সরকারি আমানতের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যে ব্যাংকগুলো এখন খারাপ পারফর্ম করছে তাদের কাছে যদি আবার টাকা দেওয়া হয় সেই টাকারও অপব্যবহার হবে কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে সিআরআর আমানতকারীদের সেফটি হিসেবে কাজ করে, সেখানে বড় ধরনের কমানো সুবিবেচিত হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে সানেমের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বজলুল হক খন্দকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. সায়েমা হক বিদিশা উপস্থিত ছিলেন।








