শহরের বাড়িওয়ালাদের করের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে শহরের বাড়িওয়ালাদের করের আওতায় আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর সেটি যদি না হয়, তাহলে বাজেটের পর বাড়ি মালিকদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ সোমবার (৯ এপ্রিল) এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এনবিআরের প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, প্রাক বাজেট আলোচনায় করজাল বাড়াতে বাড়ি মালিকদের করের আওতায় আনার প্রস্তাব করে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বাড়ির মালিকদের করের আওতায় আনা ছাড়াও দেশের সব ট্রেড লাইন্সেধারীকে করের আওতায় আনা হবে।’ তিনি বলেন, ‘অনেক বাড়ি মালিক তাদের সম্পদ অনুযায়ী কর দেন না। প্রতিটি বাড়ি মালিকদের যে পরিমাণ সম্পদ তাতে তাদের তো কর দেওয়া উচিত। বাজেটের সময় অর্থবিলে তা সংযুক্ত করা হবে। তা না হলে বাজেটের পর এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রেড লাইন্সেস নেওয়া ও নবায়নে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক।’
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে কর হিসেবে জিডিপির ১৫ শতাংশ এলেও আমাদের আসে মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ। আমাদের করের আওতা বাড়াতে হবে। তাদের আওতায় আনতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে করফাঁকির প্রবণতা রয়েছে।’
ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে বাড়ি মালিকদের অনেকেই করের আওতায় নেই। থাকলেও অনেকেই সঠিকভাবে কর দেয় না। তাদের করের আওতায় আনতে সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় আয়কর রিটার্ন জমার স্লিপ বা সনদপত্র জমা বাধ্যতামূলক করা হলে নতুন করে কয়েক লাখ করদাতা পাওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ ট্রেড লাইন্সেসধারী ব্যবসা করলেও তারা করের আওতায় আসছেন না।’ ট্রেড লাইন্সেস নেওয়া ও নবায়নের সময় রিটার্ন দাখিলের স্লিপ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আয়কর বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করারও প্রস্তাব করেন।
আবদুল মতিন বলেন, ‘ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে করের হার বেশি। সেজন্য অনেকেই ফ্ল্যাট কিনে রেজিস্ট্রেশন করেন না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া সাইনিং মানির ওপর ১৫ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করা আছে। কিন্তু জমি বিক্রিতে ৪ শতাংশ কর দিতে হয়। এতে একদিকে কর ফাঁকি হচ্ছে, অন্যদিকে কালো টাকার উৎপত্তি হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) এর সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘দেশের ১৮টি প্রাইভেট ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোস বা আইসিডি বর্তমানে প্রায় শতভাগ কন্টেইনারবাহী রফতানি পণ্য এবং ৩০ শতাংশ আমদানি পণ্য হ্যান্ডেল করে। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রায় ৩২ বিলিয়ন রফতানিমুখী তৈরি পোশাক আইসিডির মাধ্যমে বিদেশে রফতানি হয়। বর্তমানে উচ্চ করহারের ফলে এসব আইডিসিগুলো অপারেশনাল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব।’ সেগুলো আইসিডিগুলোর কোম্পানি করহার ১০ শতাংশ ও উৎসে কর ২ শতাংশ করা এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মুলধনী যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি।
এক্সপোর্ট ওরিয়েন্ট শিল্প বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল্লাহ হেল বারী বলেন, ‘বর্তমানে রফতানিমুখী জাহাজ নির্মাণ শিল্প প্রতিকূল পরিবেশ পার করছে। লোকসান গুনছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শুল্ককর ছাড় দেওয়া প্রয়োজন।’
শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন সচিব মো. সিদ্দিক বলেন, ‘জাহাজ ভাঙা শিল্পের ওপর দুই বার কর দিতে হয়। প্রথমে পুরনো জাহাজ কেনার পর ওজনের ওপর শুল্ককর, দ্বিতীয়বার জাহাজের ভেতরে থাকা সামগ্রীর ওপর কর দিতে হয়। ফলে দুই বার কর দিতে হচ্ছে।’ এছাড়া জাহাজের ওপর টনপ্রতি স্পেসিফিক ডিউটি ১৫০০ ও অগ্রিম আয়কর ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন তিনি।
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদেশিরা অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে কনসালটেন্সি করে টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশিরা বিদেশে কনসালটেন্সি করে রেমিটেন্স আনলে তার ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। এর কর প্রত্যাহার প্রয়োজন।’








