তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা করপোরেট কর কমানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি রফতানির ওপর উৎসে কর আগামী তিন বছরের জন্য প্রত্যাহারের অনুরোধও জানিয়েছেন তারা।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ কারখানার ক্ষেত্রে ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৫ আর গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করপোরেট করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হার কমিয়ে যথাক্রমে ১০ ও ১২ শতাংশ করার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
শনিবার (৯ জুন) কাওরান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এই অনুরোধ জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বাজেট প্রস্তাবনায় করপোরেট কর হার ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ এবং সবুজ শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে। যেখানে আমাদের অনুরোধ ছিল করপোরেট করহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের জন্য। আমরা মনে করি, করপোরেট করহার বাড়ানোর ফলে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, পোশাক শিল্পে করপোরেট করহার ১০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন।’
উৎসে করের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে আগামী তিন বছরের জন্য উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হোক। রফতানির ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রত্যক্ষ রফতানিকারকদের কাছ থেকে উৎসে কর কাটা হচ্ছে। সেইসঙ্গে, একই রফতানির এলসির বিপরীতে প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক যেমন, সুতা, কাপড় ও এক্সেসরিজ সরবরাহকারীদের থেকেও একই হারে উৎসে কর কর্তন করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।’
ভ্যাটের বিষয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রফতানি সংশ্লিষ্ট স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফসহ রিটার্ন দাখিল করা থেকে অব্যাহতি প্রদান, বিগত ৫/৬ বছরের যে ভ্যাট দাবি করা হচ্ছে তা মওকুফ; গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর প্রদত্ত মূসক প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে জটিলতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১০০ ভাগ মূসক অব্যাহতি দেওয়ার কথা পোশাক মালিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। বাজেটে সে বিষয়ে কোনও দিকনির্দেশনা নেই।’
স্ট্যাম্প শুল্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, কর্মসংস্থান, রফতানি ও জাতীয় স্বার্থে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা ও এর সুরক্ষার জন্য রফতানি বিলের ওপর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প শুল্ক কর্তন করা থেকে তৈরি পোশাক শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিষয়েও বাজেটে কিছু বলা হয়নি। অথচ ডেফার্ড পেমেন্টে রফতানির ক্ষেত্রে রফতানিকারকেরা ৩/৪ মাস পর পেমেন্ট পেয়ে থাকেন। তার ওপর আরও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প শুল্ক কর্তন করা মরার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এবারের বাজেট ব্যবসাবান্ধব বাজেট।’ কিছু বিষয়ে সমস্যা হলেও তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।








