অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে বৃহত্তর রংপুর বিভাগ। বিশেষ করে সোমবার (২৩ জুলাই) রংপুর শহরে এই ভোগান্তি ছিল চরমে। আশেপাশের অন্য জেলাগুলোতেও এই সমস্যা মোটামুটি লক্ষ্য করা গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দিনাজপুরের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে পড়ে। এ কারণে রংপুর এলাকা থেকে দিনাজপুর এলাকায় লোড ম্যানেজমেন্ট করে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন পড়ায় উভয় এলাকায় কিছু লোডশেডিং হচ্ছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অচিরেই এ সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
রংপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত ৮/৯ বার শোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে রংপুর শহবাসী। প্রতিবারই আধাঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিল রংপুর শহর।তবে দিনে কয়েক পশলা বৃষ্টি হওয়ায় গরমের তীব্রতা খানিকটা কম থাকলেও রাতে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুরের আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৮ ডিগ্রি।
রংপুরের আশেপাশের লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম জেলাগুলোতে লোডশেডিং কম হলেও এসব জেলায় অনেকদিন ধরেই লো ভোল্টেজ সমস্যা চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রতিনিধিরা।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান,লালমনিরহাট জেলা শহরে লো ভোল্টেজ সমস্যা মাসখানেক ধরেই চলছে। তবে সোমবার লোডশেডিং সমস্যা শহরে ততটা তীব্র ছিল না।
পিডিবির রংপুর বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দিনাজপুরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পুরো রংপুর বিভাগে পড়েছে।
তিনি লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং রাখার চেষ্টা করছি।
লো-ভোল্টেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দূর থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার কারণে সেভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। যার জন্য লো-ভোল্টেজ হচ্ছে। দিনাজপুরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা না গেলে উত্তরাঞ্চলে এই সমস্যা থাকবেই।’
এদিকে, রংপুর বিভাগে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। খুব শিগগির এ সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আজ সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মীর আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
রংপুরের সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই পরিস্থিতি সাময়িক যা সমাধানের জোর প্রচেষ্টা চলছে। এতে বলা হয়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উৎপাদন এলাকার পরিবর্তনের (ফেইস ট্রান্সফার) ফলে কয়লা খনন বন্ধ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি করে আসন্ন সংকট মোকাবিলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তারপরও বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন না থাকায় রংপুর বিভাগে ভোল্টেজ সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।এই অসুবিধা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
পরে মীর আসলাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন,দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দিনাজপুর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা মোটামুটিভাবে মেটানো হতো। কিন্তু এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রংপুর ও দিনাজপুর এলাকায় ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কারণে লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে রংপুর এলাকা থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে দিনাজপুরে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে উভয় এলাকায় থেমে থেমে লোডশেডিং হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো রংপুর বিভাগে। বিদ্যুৎ বিভাগ সমস্যা সমাধানে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অচিরেই এই সমস্যা কেটে যাবে।








