নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, বাংলাদেশে সঞ্চালন লাইন স্থাপন, জলবিদ্যুৎসহ বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগামীকাল সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দিন মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এরইমধ্যে সিলেটের পথে আছে। ভারতের ভারতের বিদ্যুৎ সচিব অজয় কুমার বালার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সোমবার সকালে বাংলাদেশে আসবেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর বিষয়ের মধ্যে আছে, ভারতের অরুণাচল থেকে জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিহারে নেওয়া এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনা।
জানা গেছে, ভারত অরুণাচল প্রদেশ থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিহার নিতে চায়।এজন্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে চায় ভারত। এর আগে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। কিন্তু সঞ্চালন লাইন নির্মাণের ব্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।ভারত এর আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যার যার অংশে সেই দেশ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করবে এবং লাইনের ব্যয় নির্বাহ করবে এমন প্রস্তাব দেয়।কিন্তু বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে বলে ভারত তার এক এলাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ তাদের আর একটি অঞ্চলে নেবে।এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন এই লাইন নির্মাণের খরচ দেবে? অন্যদিকে ভারতের এই বিদ্যুতের লাইন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নির্মাণ করে বিদ্যুৎ নেওয়ার বিপরীতে ভারত থেকে আরও দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাইছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ অর্থাৎ নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হবে।ভারত সরকারের নীতির কারণে বাংলাদেশ প্রতিবেশী কোনও দেশ থেকে বিদ্যুৎ আনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ সফল হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গতবছর ভারত প্রতিবেশী দেশ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি নিষিধ আরোপ করে একটি নীতি করেছে।ওই নীতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশ বিদ্যুৎ বিনিময় করতে চাইলে সেই কেন্দ্রে ভারতের সরকারি বেসরকারি কোম্পানির অংশিদারিত্ব থাকতে হবে।একইভাবে ভারতের কোম্পানিকে সঞ্চালনের দায়িত্ব দিতে হবে।ভারতের এই নীতির কারণে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।এজন্য ভুটানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলেও সই করা হচ্ছে না।অন্যদিকে নেপালের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তাতেও ভারতের অংশ গ্রহণ প্রয়োজন হবে। বৈঠকে এসব বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ নেপালে অবস্থিত ভারতীয় কোম্পানি জিএমআর থেকে যে জলবিদ্যুৎ কিনছে।এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশ ভারতের কোম্পানি বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগাম (এনভিভিএন) এর মাধ্যমে কিনছে।
জানতে চাইলে ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব বিষয়ে এর আগে সমাধান হয়নি, সেগুলো আলোচনা করা হবে। বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।আশা করছি, এবার বৈঠকে আমরা এসব বিষয়ে প্রলপ্রসূ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবো।’
এছাড়া বৈঠকে রুফটপ সোলার, জ্বালানি ক্ষতা উন্নয়ন ও রামপালের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।তবে এর আগের বৈঠকে রামপালের দ্বিতীয় ইউনিট না করে সেখানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে স্টিয়ারিং কমিটি।এবার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।








