গ্যাসের দাম বাড়ানো সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ঘোষিত সংবাদ সম্মেলনটি অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। আজ রবিবার (৭ অক্টোবর) বিকালে এ সংবাদ সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল। বিইআরসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিইআরসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য জানান, হঠাৎ করে ঘোষণা না দিয়ে একটু সময় নিয়ে ঘোষণা দেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন। তাই আজ বিকেলে ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। তবে দুই একদিনের মধ্যে এই ঘোষণা দেওয়া হবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর আওতায় এবার পড়তে যাচ্ছে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ ও যানবাহন। বাসা-বাড়ি ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে। যদিও যে কোনও খাতে গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব প্রত্যেক মানুষের ওপর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে পড়বেই।
তবে গ্যাসের মূল্য কতভাগ বাড়ছে তা কমিশনের দায়িত্বশীল কেউ নিশ্চিত করেননি।
জানা গেছে, গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক ছাড়া সব ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ কোম্পানি। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এনএলজি) খরচ মেটাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে, গত ১৮ আগস্ট থেকে এলএনজির সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী।
এই বছরের মার্চ মাসে গড়ে ৭৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছিল গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। তবে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়নি। এর আগে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছিল, এনএলজি এলে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য বিইআরসির হাতে ৯০ দিন সময় ছিল। জুনের শেষে শুনানি শেষ হয়েছে। সেই হিসেবে এই সপ্তাহে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা। এর আগে গত ১১ জুন থেকে গ্যাসের দাম ও সঞ্চালন বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানি শুরু করে কমিশন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মতো পাইপলাইনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এনএলজি) সরবরাহ শুরু হয়। প্রথমে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হলেও এখন প্রতিদিন কর্ণফুলি গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রিড থেকে সমপরিমাণ গ্যাস চট্টগ্রামের বদলে অন্য জায়গাতে সরবরাহ করা হচ্ছে।








