নির্বাচনকে সামনে রেখে গোয়েন্দা নজরদারিতে তৈরি পোশাক খাত

শফিকুল ইসলাম
০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:০২আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:১৫

গার্মেন্টস কারখানা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে এক বা একাধিক মহল পোশাক খাতে অসন্তোষ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পটভূমিতে কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। নির্বাচন শেষে বিজয়ী দলের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ ও দায়িত্বভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ নজরদারি চলবে। এরই মধ্যে তৈরি পোশাক কারাখানা অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, চট্টগ্রাম ও টঙ্গী এলাকা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কথিত শ্রমিক নেতা পরিচিতদের গতিবিধিও নজরে রাখছেন দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতেই সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তৈরি পোশাক খাতকে কেন্দ্র করে সরকার গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটিও একই আশঙ্কা করছে বলে জানা গেছে।

গত  ১ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর করা হয়েছে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো। আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শ্রমিকরা বেতন পাবেন নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী। এ বেতন কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের অসন্তোষ চলছে। সেটিকে একটি অসাধু মহল কাজে লাগাতে চায় বলে সূত্র জানিয়েছে।

ওই সূত্রমতে, তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বানচাল করা। যেহেতু দেশের তৈরি পোশাক খাত একটি স্পর্শকাতর খাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের উন্নত দেশ ও সংস্থার বায়ারদের নজর রয়েছে এদিকে। তাই এই খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারলে অসাধু চক্রটি সহজে বাংলাদেশের নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে বিশ্বের নজরে আনতে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নজরে আনা কারখানাগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় রয়েছে প্রায় দুইশ’। দেড়শ কারখানা রয়েছে চট্টগ্রামে। এ ছাড়া বাকি কারখানা রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়াসহ অন্যান্য এলাকায়। অসন্তোষপ্রবণ এসব এলাকায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ ছাড়াও সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারি করছেন। নিয়মিত নজর রাখছে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-ও।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন অতিরিক্ত সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। যেহেতু দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, সেহেতু মন্ত্রণালয় সেই কাজটি করছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু নজরদারি নয়, প্রয়োজন হলে অ্যাকশনে যাবে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনে যেকোনও কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পিছপা হবে না। যেকোনও মূল্যে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হতে দেবে না।’ 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় গড়ে ৫১ শতাংশ বাড়লেও ‘বিভিন্ন রকম’ ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসেন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।” তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচন চান না, তারা বিভিন্নভাবে নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন বলে আমরা লক্ষ্য করছি। আমাদের মনে হচ্ছে সবেচেয়ে বড় গার্মেন্টস সেক্টরে অসেন্তোষ সৃষ্টি করার জন্য কিছু কিছু মহল চেষ্টা করছে। বিভিন্ন বাহানা করে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নতুন মজুরি।’

উল্লেখ্য, দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আগের তুলনায় বেতন বাড়ানো হয়েছে দুই হাজার ৭০০ টাকা। নতুন এ বেতন কাঠামো  ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকার ঘোষিত এই মজুরি কাঠামো প্রত্যাখ্যান করেছে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক সংগঠনগুলো।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকরা বর্ধিত হারে বেতন পাবেন। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আমরা সেটা মেনে নিয়েছি।’ তিনি জানান, গাজীপুরের কিছু ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা কাজ করেননি, তাদের অভিযোগ বেতন কম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এবার ইলেকশন আছে, আমরা কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবো না— সেটা শ্রমিক পক্ষ হোক আর মালিক পক্ষ হোক।’

বিকেএমইএ’র সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বর মাসের বেতনটা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেবো।’ মালিকদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, অনেক মালিক বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মজুরি কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী এই ডিসেম্বরেই নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
চার অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
চার অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিফতরে অবিবাহিতদের চাকরির সুযোগ, লাগবে না অভিজ্ঞতা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিফতরে অবিবাহিতদের চাকরির সুযোগ, লাগবে না অভিজ্ঞতা
মাজারের কুমিরটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
মাজারের কুমিরটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের