গত দেড় বছর ধরে দেশের ডলারের বাজারে অস্থিরতা চলছে। ডলার সংকটে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির এলসি খুলতে চাইছে না ব্যাংকগুলো। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ডলার সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা বন্ধ রেখেছে ব্যাংকগুলো। বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দ্বারস্থ হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এখন বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানির এলসিও খুলতে চাইছে না সংশ্লিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক। এতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে গত মাসে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি পাঠান বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান। বিপিসির ওই চিঠিসহ সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে বর্তমানে ডলার সংকট অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্যাংকগুলো বিপিসির এলসি কেন খুলছে না সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ভালো বলতে পারবে। তবে বাজারে এখন ডলারের কোনও সংকট নেই। তিন থেকে চার মাস আগে সংকট কিছুটা ছিল।
সূত্র জানায়, ডলারের সংকটের কথা বলে বিদেশি খাতের কয়েকটি ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক গত ছয় মাস ধরে বিপিসির এলসি খোলা থেকে বিরত রয়েছে। আগস্ট থেকে ইসলামী ব্যাংক এলসি খুললেও বর্তমানে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বিপিসির এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করছে ।
বিপিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন অবস্থায় জ্বালানি তেল আমদানির চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এবং যথাসময়ে আইটিএফসির ঋণ পরিশোধ, এলসি খোলা ও এলসি মূল্য পরিশোধের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
বিপিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, বিপিসি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি করে সরকার নির্ধারিত হ্রাসকৃত মূল্যে সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে। এই রাষ্ট্র্রীয় গুরুদায়িত্ব পালনে ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিপিসিকে জ্বালানি তেল আমদানি ও অর্থায়নে সর্বাঙ্গীন সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিদেশি খাতের এইচএসবিসি, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ও সিটি ব্যাংক এনএ এবং বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ও ওয়ান ব্যাংক ডলার সংকট উল্লেখপূর্বক এলসি খোলা থেকে বিরত রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ আগস্ট থেকে একটি করে এলসি খুলে আসলেও বর্তমানে তারাও এলসি খুলতে পারবে না মর্মে বিপিসিকে অবহিত করেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্র্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক জ্বালানি তেলের এলসি খুলে এলেও তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে মর্মে ডলারের মার্কেট রেট দাবি করছে। এছাড়া বর্তমানে রাষ্ট্র্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্য উৎস হতে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে না পারায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হতে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ না করায় প্রায় প্রতিটি এলসির পেমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) রিপেমেন্ট সময়মতো করছে না। প্রতিটি পেমেন্টেই ব্যাংকগুলো ১০ থেকে ১২ দিন বিলম্ব করছে।
বিপিসির চিঠিতে বলা হয়, চাহিদা অনুযায়ী এলসি খোলা না হলে তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিলম্বজনিত চার্জ এবং কার্গোর ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডের কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।








