বিশ্বব্যাপী কাজের ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও এর শততম বার্ষিকীর শ্রম সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ভবিষ্যতের কাজের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকতে হবে।’
বুধবার (২৭ মার্চ) জেনেভায় আইএলও সদর দফতরে গভর্নিংবডির সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় তিনি আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার শততম বার্ষিকীতে ১০৮তম শ্রম সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের খসড়া উপস্থাপন করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘোষণাপত্রে অবশ্যই নির্দেশ করতে হবে ভবিষ্যতের কাজের জন্য কি কি দক্ষতার প্রয়োজন হবে এবং কোন পদ্ধতিতে এ দক্ষতা অর্জন করা যাবে। এ দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিক, নারী, যুবক এবং অভিবাসী শ্রমিকদের প্রাধান্য দিতে হবে। দক্ষতা অর্জনে এসব শ্রমিকদের অত্যাধুনিক এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিষয়ে তাদের মাথায় রাখতে হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজ দিয়ে নিতে হবে। এবারের সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে নিশ্চিত করতে হবে নারী ও পুরুষ অভিবাসী কীভাবে নিরাপদে এবং নিয়মিত অভিবাসী হতে পারবেন।’
শ্রমপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘোষণাপত্রে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কর্মসংস্থান এবং শ্রম বাজারে কি ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়েগুলোর উল্লেখ থাকতে হবে।’ প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতি দূর করতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে আইএলও এর ঘোষণাপত্রের আলোচনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতি বছর ২০ লাখ লোক শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার জন্য শোভন কর্ম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ‘ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা ভবিষ্যৎ কাজের প্রথম ধাপ। ডিজিটাল বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের সংখ্যা কমবে, কর্মস্থল আরও নিরাপদ হবে, শ্রমিকরা ভাল মজুরি পাবে এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। দেশে যে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১০ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’’
প্রতিমন্ত্রী আইএলও এর শততম বার্ষিকীর ১০৮তম শ্রম সম্মেলনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় যোগ দিতে ২৫ মার্চ জেনেভা যান। গভর্নিংবডির সভায় প্রতিমন্ত্রী ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সভায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব উম্মুল হাছনা, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ আহম্মদসহ মন্ত্রণালয় এবং জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছেন।







