ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে রাজধানীসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এতে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাত ১০টা নাগাদ অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
রবিবার সন্ধ্যায় ঝড় শুরুর কিছুক্ষণ পরেই রাজধানীর ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, পান্থপথ, কলাবাগান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশ, আজিমপুর, লালবাগ, মগবাজার, মৌচাক, মাতুয়াইলসহ বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গিয়ে আঁধার নেমে আসে। বজ্রচোরা আলোয় এ সময় এসব এলাকা ভুতুড়ে হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) পরিচালক (অপারেশন) হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ঝড়ে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গাছ পড়ে তার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই কারণে ধানমন্ডি, লালবাগ, মগবাজার ও মাতুয়াইল এলাকার চারটি ১৩২ কেভি গ্রিড লাইন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এসব এলাকাসহ আশপাশের অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, এসব এলাকার গ্রিড চালু করার চেষ্টা চলছে। মেরামতের কাজ চলছে। তবে সবকিছু ঠিকঠাক করতে আরও এক থেকে দেড়ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ফলে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে রাত ১১টা বেজে যেতে পারে।
এদিকে ধানমন্ডির বাসিন্দা সুজন আহমেদ জানান, ঝড় শুরুর পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়৷ স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে শুনলাম, তারের ওপর গাছ পড়েছে। তারা মেরামতের চেষ্টা করছে।
মধুবাগ থেকে মৃত্তিকা সাহা জানান, সন্ধ্যায় ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ গেলেও আধ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে এসেছে।
শান্তিনগর থেকে নাজমা আক্তার জানান, সন্ধ্যায় ঝড় শুরুর পরপর বিকট শব্দ হয় আর বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, এলাকার ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ এসেছে বলে তিনি জানান।
এদিকে পিডিবির সদস্য (জনসংযোগ) সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঢাকায় ধানমন্ডিতে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। এছাড়া সিলেট ও কুমিল্লায়ও একইভাবে গাছ পড়ে তার ছিঁড়েছে বেশ কয়েকটি এলাকায়। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুতের ডিমান্ড কমে যায়। এতে হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবাহার একটি ইউনিট এবং আশুগঞ্জের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিকলবাহা চালু করা হলেও আর দুইটা ডিমান্ড না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে। মূলত ঝড় বৃষ্টির কারণে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিমান্ড কমে গেছে। ফলে উৎপাদনও কমে গেছে। উৎপাদম ক্ষমতা আছে। কিন্তু ডিমান্ড না থাকায় কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।








