আগামী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে সাভারে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর কাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব মো. আব্দুল হালিম। তিনি জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুত আছে, কোথাও লবণের ঘাটতি নেই। তাই আসন্ন ঈদে লবণের দাম বাড়বে না, এর কোনও সুযোগ নাই।
বুধবার (৩১ জুলাই) সাভারের হেমায়েতপুরের হরিনধরা এলাকায় অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প কার্যালয়ে চামড়া শিল্পনগরীর সর্বশেষ অবস্থা এবং দেশে লবণ মজুত পরিস্থিতি বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন শিল্প সচিব।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বুয়েটের বিআরটিসি'র টিম লিডার প্রফেসর ড. মো. দেলোয়ার হোসেন, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আবদুল জলিল, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত উল্লাহ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. দিলজাহান ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সেলিম, চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল, বিসিকের পরিচালক মাহবুবুর রহমান, স্বপন কুমার ঘোষ, মোহাম্মদ আতাউর রহমান সিদ্দিকী ও বিসিকের সচিব মোস্তাক আহমেদ।
এ সময় শিল্পসচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী এবছর এক লাখ ১৭ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোরবানির সময় তাৎক্ষণিকভাবে ৮২ হাজার টন লবণ প্রয়োজন হবে এবং বছরে বাকি সময় মোট ১ লাখ টন লবণ প্রয়োজন হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২০১৮-১৯ লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ মোট ১৮ লাখ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে উল্লেখ করে শিল্পসচিব বলেন, চাষী, মিলমালিক ও সরবরাহকারীদের কাছে বর্তমান ৯ লাখ টন লবণ মজুত আছে যা দিয়ে সহজেই নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত লবণের সকল চাহিদা পূরণ করা যাবে। নভেম্বর ২০১৯ হতে চাষীরা নতুন লবণ উৎপাদন শুরু করবেন। তাই লবণের কোনও ঘাটতি হবে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পসচিব বলেন, ২০০ একর জায়গার ওপর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য সংশ্লিষ্ট লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পসচিব বলেন, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ডে ১৬০০টি প্যারামিটার রয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি প্যারামিটার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্ল্যান্ট সংক্রান্ত। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে অবশিষ্ট ১৫০০ প্যারামিটার অনুযায়ী চামড়া শিল্প নগরীতে স্থাপিত ট্যানারিগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্ল্যান্টে ক্রোম সেপারেশন ও সেডিমেন্টেশনের মান ক্রমশঃ উন্নত হচ্ছে বলে শিল্পসচিব উল্লেখ করেন।
চামড়া শিল্পনগরীর কঠিন বর্জ্য ৩টি স্থানে ডাম্পিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে শিল্পসচিব বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উৎপাদিত সকল বর্জ্যই ক্ষতিকর নয়। ক্রোমিয়াম ব্যবহারের পূর্ব পর্যন্ত উৎপাদিত বর্জ্য নিরাপদ এবং এসব বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য উৎপাদনে ব্যাবহার করা যায়। এসব ব্যবহারযোগ্য ট্যানারি বর্জ্যকে কিভাবে উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান শিল্প সচিব।
এর আগে শিল্পসচিব চামড়া শিল্পনগরীতে স্থাপিত কয়েকটি ট্যানারির উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। চামড়া শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালক জিতেন্দ্রনাথ পাল, বিসিকের পরিচালক মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন।








