রবিবার থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) দুদিনব্যাপী বৈঠক। শেষ হবে সোমবার। সর্বশেষ ২০১০ সালে এই সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই বৈঠক। এরপর গত সাড়ে ৫ বছরে আর এই বৈঠকটি হয়নি।
উন্নত দেশগুলো আগে দরিদ্র দেশগুলোকে আলাদাভাবে সহায়তা দিত। সমন্বিত কোনও উদ্যোগ ছিল না। ফলে কোনও দেশ বেশি সহায়তা পেত, কোনও দেশ পেত না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে একাধিক সংস্থা বেশি পরিমাণে অর্থ দিত।
এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে এবং সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে ১৯৭৪ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘এইড কাব’ নামে একটি গ্রুপ গঠন করা হয়। ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী দেশগুলো এর সদস্য ছিল। পরে জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কিছু ধনী দেশ এতে যুক্ত হয়। এই কাব থেকে বৈঠক করে সমন্বিতভাবে তারা বিভিন্ন দরিদ্র দেশকে সহায়তা দিত। ওই সময়ে সাহায্য দাতাদের বলা হতো দাতাদেশ বা সংস্থা। ২০১০ সালে ওই শব্দ থেকে বের হয়ে নামকরণ হয় ‘উন্নয়ন সহযোগী’।
আগে এইড কাবের বৈঠকে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী এবং কর্মকর্তারা অংশ নিতেন। এ সম্মেলন ‘প্যারিস কনসোর্টিয়াম বৈঠক’ নামে পরিচিত ছিল। ওই বৈঠকেই বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়ার পরিমাণ ও শর্ত নির্ধারিত হতো। সাধারণত বাজেটকে সামনে রেখে এপ্রিল বা মে মাসে প্যারিসে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়া ও রাশিয়ার বিভক্তির পর স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হলে দাতাদের সহায়তার পরিমাণ কমতে থাকে। একই সঙ্গে কমতে থাকে ওই বৈঠকের গুরুত্ব। ফলে এক সময়ের ওই ‘প্যারিস কনসোর্টিয়াম বৈঠক’ থেকে রূপান্তরিত হয় বিডিএফ বৈঠক। ২০০১ সালে প্যারিস কনসোর্টিয়াম আয়োজক কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বছর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম নামে ঢাকায় বৈঠক করার পরামর্শ দেয়। এরপর ঢাকাতেই ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক হয়েছিল। যদিও ২০০৫ সালে এ বৈঠক দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলপত্র বাস্তবায়ন ফোরাম (পিআইএফএম) নামে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সরকারের জনভিত্তি না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা বিডিএফ বৈঠকে বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এরপর দীর্ঘ ৫ বছর পর ২০১০ সালে এসে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বৈঠক।
এই বৈঠকে সমন্বয় করতে ঢাকায় অবস্থিত উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠন করা হয় স্থানীয় পরামর্শক গ্রুপ (এলসিজি)। এই গ্রুপ মধ্যবর্তী বৈঠক করে বা জরুরি প্রয়োজনে বৈঠক করে সহায়তা ছাড় করার ব্যাপারে ভূমিকা রাখত। ঢাকায় এই বৈঠকটি সমন্বয় করত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনপ্রধান।
এবার এমন সময়ে ওই বৈঠকটি হচ্ছে যখন ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কোনও আবাসিক মিশনপ্রধান নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে চলছে। এছাড়া, পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্কও রয়েছে। ফলে এবারের বৈঠক আয়োজনে বিশ্বব্যাংক কোনও ভূমিকা রাখতে পারছে না। পুরো বৈঠকটিই সমন্বয় করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এতে বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কোনও ভূমিকাও নেই।
/এসআই/এমএনএইচ/








