সরকারের নানা উদ্যোগের পরেও স্থিতিশীল হয়নি পেঁয়াজের বাজার। বর্তমানে বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২৬০ টাকা দরে। অন্যদিকে দেশি পুরনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। রাজধানীর কোনাপাড়া, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার ও কাওরানবাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি করা মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। আর দেশি পুরনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে।
জানতে চাইলে কোনাপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন জানান, আমদানি করা মিসরের পেঁয়াজ শ্যামবাজার আড়ত থেকে আমরা কিনে আনছি ১৬০ টাকা কেজি দরে। ৫০ কেজির বস্তায় পেঁয়াজ থাকে ৪৫ থেকে ৪৭ কেজি। ওজনে গোঁজামিল দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর পরে বস্তা থেকে পচা পেঁয়াজ বাদ ও পরিবহন খরচ দিয়ে মুনাফা করাটাই কষ্টের বিষয়। কেজিতে ১০ টাকার বেশি ব্যবসা করেন না বলেও জানান ফরিদ উদ্দিন।
দেশি পেঁয়াজ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজারে আসলে দেশি পেঁয়াজ আর নেই। এরপরেও যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তার চাহিদা অনেক বেশি। তাই চাইলেও দাম কমানো যায় না। ক্রেতাদের নজরই দেশি পেঁয়াজের দিকে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা পরিমাণে অল্প হলেও দেশি পেঁয়াজ কেনেন।
এদিকে টিসিবির ট্রাকসেলও পেঁয়াজের বাজারে কোনও প্রভাব ফেলছে না। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে দায়ে পড়ে পেঁয়াজ কিনছেন। কিন্তু এই পেঁয়াজের প্রতিও মানুষের আগ্রহ কম।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, মিসরের আপেল সাইজের পেঁয়াজ সবজি হিসেবে খান মিসরীয়রা। স্বাদ কম, ঝাঁজ নেই। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে এ পেঁয়াজ কিনছেন।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন পেঁয়াজ পর্যাপ্ত পরিমাণে না ওঠা পর্যন্ত এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। সরকারের কোনও উদ্যোগই কাজে আসছে না বলে জানান তারা।








