রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরের নামিদামি শপিংমল-ব্যবসা কেন্দ্রে আদায়কৃত ভ্যাট ফাঁকি রোধ করতে র্যাবকে ব্যবহার করার চিন্তা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্যাট ফাঁকি রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্ব পেতে চায় র্যাব। তবে, বিদ্যমান ‘ভ্যাট আইন’ ‘মোবাইল কোর্ট আইন’-এর তফসিলে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য বিদ্যমান মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর তফসিলে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে র্যাব। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত বছরের শেষভাগে র্যাবের মহাপরিচালক এনবিআরে চিঠিটি পাঠান। যার অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খানকেও দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা শহরে অনেক নামি-দামি শপিংমল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতা সাধারণের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আদায়কৃত ভ্যাট বিধি মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট খাতে জমা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে, রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, আবার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইলেকক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে অনুসৃত হচ্ছে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টসূত্র নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, মোবাইল কোর্ট আইন- ২০০৯-এ অন্যান্য আইন তফসিলভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওই আইনের আওতায় র্যাব অভিযান চালাতে পারে না। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল, ভুয়া ডাক্তার, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অবৈধ ব্লাড ব্যাংক, ভেজাল ওষুধ ও কসমেটিক্স এবং অবৈধভাবে বন্যপ্রাণি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আইন মোবাইল কোর্ট আইনে তফসিলভুক্ত হওয়ায় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব আইনের আওতায় অভিযান পরিচালনা করেন।
এ প্রসঙ্গে র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, এতে ব্যবসায়ী সমাজ সরকারের রাজস্ব আদায়ে তাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হবেন, ক্রেতাসাধারণের অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা হ্রাসসহ সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, ভ্যাট ফাঁকি রোধে র্যাব কর্তৃক মোবাইল কোর্ট চালানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এমনিতেই ভ্যাট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভ্যাট আইনের ২৪ ধারায় বলা রয়েছে, চাইলে ভ্যাটের অফিসাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারবেন।
/এসআই/এমএনএইচ/








