আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঋণে ১৪ শতাংশের বেশি সুদ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংক। একইভাবে এই ব্যাংকগুলো আমানত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে সুদ দেবে। সোমবার ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সরকারি ব্যাংকগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি ব্যাংকের পর্ষদের বৈঠকে উত্থাপন করে অনুমোদন নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঋণে সুদহার কমানোর জন্য সোনালী ব্যাংক অনেক দিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সোনালী ব্যাংকের বোর্ডও নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বসে ঋণে ১৪ শতাংশের বেশি সুদ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে আমানত নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার বিষয়েও নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক আগের চেয়ে কম সুদহার প্রয়োগ করবে।
এর ফলে সরকারি এই ব্যাংকগুলোর ঋণের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ এবং আমানতে ১ শতাংশ সুদহার কমবে। অবশ্য ঋণ বা আমানতের সব ক্ষেত্রে ওই হারে সুদ কমবে না।
বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলো মেয়াদি আমানতে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। বিপরীতে ঋণে সুদ নিচ্ছে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও প্রায় একই রকম সুদ নির্ধারিত থাকলেও গ্রাহকভেদে তারা ভিন্ন হারে সুদ নিয়ে থাকে।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সোনালী, জনতা, রূপালী, বেসিক, বিডিবিএল ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বর্তমানে ৫৬টি ব্যাংকের প্রায় ৯ হাজার শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর শাখা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। শাখা বিবেচনায় মোট ঋণ ও আমানতে এসব ব্যাংকের অংশ কম। তবে সংখ্যা বিবেচনায় সরকারি ব্যাংকে গ্রাহক বেশি হওয়ায় একযোগে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার প্রভাব পড়ে অনেক বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক খাতে আমানতে সুদ হার নেমে গেছে সাড়ে ৬ শতাংশেরও নীচে। অবশ্য বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকায় ব্যবসায়ীরা ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকায় তিন বছরে ঋণে সুদ হার প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। বর্তমানে উদ্যোক্তাদের ঋণে গড়ে সুদ গুণতে হচ্ছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ হারে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমা খুব জরুরি। এ কারণে ঋণে সুদের হার কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কাজে দেবে। আগামী দিনে সুদের হার আরও কমবে বলেও তিনি আশা করেন।
এদিকে এ খাতের আমানতে সুদ হার কমার প্রেক্ষিতে ঋণেও সুদ হার কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ঋণে সুদ হার কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ।
জানা গেছে, সুদহার ঘোষণার সময় বেসরকারি ব্যাংকগুলো সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সুদহার নিজেরাই ঘোষণা করে। এর ফলে গ্রাহক ভেদে তারা ভিন্ন সুদ নিতে পারে। বিশেষ করে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করেন এমন উদ্যোক্তাকে কম সুদে ঋণ দেয় এসব ব্যাংক।
সূত্র জানায়, আমানতের সুদহার কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। এতে করে কলমানির সুদের হারও অর্ধেক কমে গেছে।
/জিএম/টিএন/








