ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পোশাক খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেখে বিকেএমইএ বিস্ময় প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। প্রতিবেদনটি টিআইবি’র কোনও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের অংশ কি না, সে বিষয় নিয়েও সন্দেহ ব্যক্ত করেছে বিকেএমইএ। শনিবার বিকেলে ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সেলিম ওসমান বলেন, এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে চলমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়নের কোনও অংশ কি না, তাও ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। একইসঙ্গে বিকেএমইএ বলেছে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতের বিরুদ্ধে চলমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে রুখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ পোশাক শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দফতর-অধিদফতরের সহযোগিতা কামনা করেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে সেলিম ওসমান বলেন, টিআইবি কর্তৃক প্রকাশিত গবেষণা পত্রে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে ধরনের গবেষণা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং যে সব ক্ষেত্রে থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার যথাযথ কোনও বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যথায় পোশাক খাতের কাঠামোগত কলেবর বিবেচনায় সংখ্যাতত্ত্বীয় বিচারে অতি নগণ্য ৭০টি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এত বড় পোশাক শিল্পখাতের ওপর এ ধরনের প্রতিবেদন টিআইবি প্রকাশ করত না। কারণ ৭০টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কোনওভাবেই ৫ হাজার ৫০০শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায়োগিক ও কাঠামোগত কার্যক্রমকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে সমগ্রিকভাবে প্রতিফলিত করে কি না—এ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের (নিট ও ওভেন) রেগুলেটরি সংগঠন বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ’র নেতাদের সঙ্গে এই গবেষণার প্রস্তুতিপর্বে, গবেষণা চলাকালে কিংবা গবেষণালব্ধ ফল পাওয়ার পরে বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি। ফলে এটি টিআইবি’র কোনও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের অংশ কিনা, সে বিষয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
কোনও ফ্যাক্টরি বস্ত্র অধিদফতর, রাজউক, ফায়ার এবং সিভিল সার্ভিস ডিফেন্স, এলজিআরডি থেকে লে-আউট অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরেই বিকেএমইএ কর্তৃক সদস্যপদ দেওয়া হয়। কেবল নিবন্ধিত সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যাদেশ পায়। এক্ষেত্রে অনিবন্ধিত কারখানায় পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহকারী কর্তৃক ক্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের কোনও সুযোগ নাই।
/এসআই/এমএনএইচ/








