আগ্রহ নেই ১৩ ব্যাংকের, কমেছে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি

গোলাম মওলা
২৪ জানুয়ারি ২০১৬, ১২:৩৩আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৬, ১২:৩৮

রেমিট্যান্স

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ১৩ ব্যাংকের আগ্রহ নেই বললেই চলে। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি ব্যাংক এক টাকাও রেমিট্যান্স আনেনি। ব্যাংক দুটি হচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও ১১টি ব্যাংকের রেমিট্যান্স আহরণে উৎসাহ নেই। সার্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, লিবিয়া, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী জার্মানি, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। এ অবস্থায় কমে গেছে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬৮ শতাংশে। ২০১৪ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে প্রবাসীরা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ কোটি ৬ লাখ ডলার কম পাঠিয়েছেন। ২০১৫ সালে এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার। কিন্তু ২০১৪ সালে আসে ১৩৮ কোটি ১৪ লাখ ডলার। একইভাবে এক বছরের ব্যবধানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স কম এসেছে প্রায় ৪ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসে ১৪৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রবাসীরা ১৪৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। 

এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ৪ কোটি ডলার, ব্র্যাক ব্যাংকে ৭ কোটি ডলার, এনসিসি ব্যাংকে ৬ কোটি ডলার, সিটি ব্যাংকে ৬ কোটি ডলার, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৩ কোটি ডলার, ইউসিবিএলে ২ কোটি ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংকে ২ কোটি ডলার, মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১ কোটি ডলার ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে কমেছে প্রায় ৩ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার তালিকায় আছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নামও। তবে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে- ৩৮৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অর্থনৈতিক টানাপড়েনে বিভিন্ন দেশে জীবনযাপন ব্যয় বেড়েছে। কিছু কিছু অস্থিরতাও রয়েছে। কিছু দেশে আইনের সীমাবদ্ধতা আছে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এসব কারণেও টাকা কম এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি ১৩টি ব্যাংকেরও রেমিট্যান্স আহরণে কোনও উৎসাহ নেই। ব্যাংকগুলো হচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক, বেসরকারি খাতের আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক। এ ছাড়া বিদেশি খাতের ৫ ব্যাংক রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে অবদান রাখছে না বললেই চলে। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে আল-ফালাহ ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এনএ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীদের আয় কমে যাওয়া মানে অর্থনীতিতে সামান্য হলেও দাগ লাগা। তিনি বলেন, যে সব ব্যাংক রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তাদের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর দেওয়া উচিত।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি আছেন। তাদের সিংহভাগই শ্রমিক, যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এক লাখের কিছু বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০১৪ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৭৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৬ কোটি ১৫ লাখ ডলারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া থেকেও কমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। ২০১৪ সালে দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীরা ৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলার দেশে পাঠালেও গত বছর পাঠিয়েছেন ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। রেমিট্যান্স কমেছে কুয়েত থেকেও। ২০১৪ সালে ওই দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১১০ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন। গত বছর  পাঠিয়েছেন ১০৫ কোটি ২৫ লাখ ডলার। ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেশে পাঠালেও গত বছর পাঠিয়েছেন ৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছিল ৪৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। গত বছর পাঠিয়েছেন ৪০ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টার প্রেস নেটওয়ার্ক- আইপিএন-এর গবেষক আনোয়ারুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা সঙ্কটের কারণে প্রবাসীদের আয় কমে গেছে। বিশ্বজুড়ে জঙ্গিবাদ, আইনের কড়াকড়ি এবং ইরান-সৌদি আরব সম্পর্কের অবনতির প্রভাবও প্রবাসীদের আয়ে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

 

/এফএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম