পদ্মা ব্যাংককে (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) বাঁচিয়ে রাখতে এবার আর্থিক প্রতিবেদনে ‘তথ্য গোপন’ রাখার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ ব্যাংকটি তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসানের তথ্য গোপন করার সুযোগ পেলো। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে ব্যাংকটিকে এই সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে ব্যাংকটির বন্ধ ঠেকাতে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলো মূলধন জোগান দেয়। পরে নাম বদলে পদ্মা ব্যাংক নামকরণ করা হয়। তখন থেকেই ব্যাংকটিকে বেশ কিছু নীতি ছাড় দেওয়া হয়। নগদ অংশ সংরক্ষণ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রিকোয়ারমেন্ট) ও বিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআরের (স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রেশিও) অর্থ জমা রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মওকুফ করা হয় দণ্ড—সুদ ও জরিমানা।
শুরুতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তার মেয়াদে ব্যাংকটি নানা ধরনের ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে পড়ে।
জানা গেছে, বিদেশি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডেলমর্গান অ্যান্ড কোম্পানি পদ্মা ব্যাংকে ৭০ কোটি ডলার বা ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছে। ৯০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানে থাকা পদ্মা ব্যাংকের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এই লোকসান দেখাতে হবে না।
লোকসানের বিপরীতে ‘ইনটেনজিবল অ্যাসেট বা অদৃশ্য সম্পদ’ সৃষ্টি করা হবে। আগামী ১০ বছরের মুনাফা থেকে যা সমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া লোকসান সমন্বয়ের সময়সীমা পর্যন্ত ১০ বছর ব্যাংকটি শেয়ারধারীদের কোনও লভ্যাংশ দিতে পারবে না। তবে বিদেশি বিনিয়োগ না এলে এই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।









