গত বছর (২০১৫) রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি লোকসান দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক। গত বছর এ ব্যাংকটি ছাড়া কৃষি ব্যাংক ১৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ২৫ কোটি ৬২ লাখ ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ৪৬ দশমিক ৮৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।
দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছরে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফার পরিমাণ হচ্ছে ২২ হাজার ৮৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এ ব্যাংকটি গত বছর ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। লাভের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক লাভ করেছে ১ হাজার ৬৫০ কেটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশি লাভ করেছে জনতা ব্যাংক। এ ব্যাংকটি লাভ করেছে ১ হাজার ১৫২ কোটি ৬ লাখ টাকা।
জাতীয় পার্টির বেগম সালমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে আমদানি পর্যায়ে ২২ হাজার ১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২০ হাজার ৮৩২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ২ হাজার ৯৯৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।
বেগম হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী মুহিত জানান, বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতার সংখ্যা ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৫০৩ জন। ব্যক্তি পর্যায়ে চলতি বছরের জুন নাগাদ ৩ লাখের মত নতুন করদাতা শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবার বৈদেশিক সহায়তা ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর ডিসেম্বর সময় বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ছিলো ১৫০১.৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ১৫৯২.৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রাপ্ত বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে ২৯৮.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন অনুদান এবং ১২৯৩.৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
/ইএইচএস/এমএসএম/








