আরও তিন বছর বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই পাচ্ছে বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডসভা রবিবার (২৭ মার্চ) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সাল পর্যন্ত পদ্মা ব্যাংকের এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতার এই সুবিধা পেয়ে আসছিল ব্যাংকটি। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই দেওয়া হয় ব্যাংকটিকে।
সাধারণত, গ্রাহকদের জমা করা টাকার সুরক্ষার জন্য ব্যাংকগুলোকে আমানতের ১৩ শতাংশ অর্থ বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। আর তা সংরক্ষণ করতে হয় সরকারের ট্রেজারি বিল-বন্ড কেনার মাধ্যমে। সংকটে পড়া পদ্মা ব্যাংক তা সংরক্ষণ করতে পারেনি। এজন্য অবশ্য জরিমানা হয়নি ব্যাংকটির। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এসএলআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে সেই ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হয়।
এর আগে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডকে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রথমবারের মতো এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পরে দ্বিতীয়বারে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়ানো হয়।
তৃতীয়বারের মতো এবার বাড়ানো হচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকে জমা রাখা গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষায় ওই আমানতের ১৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। নগদ অর্থ, বিল-বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ জমা রাখতে পারে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ৪ শতাংশ অর্থ নগদ জমার হার হিসেবে (সিআরআর) আর বাকি ১৩ শতাংশ এসএলআর হিসেবে রাখতে হয়।
সরকারি চার ব্যাংক ও আইসিবির ৭০০ কোটি টাকার বেশি মূলধন জোগান, বিধিবদ্ধ জমা বা এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড়সহ বেশকিছু নীতি সহায়তা দিয়ে আসছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এসব ছাড়েও ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।









