প্রতিবছর লাখ-লাখ কোটি টাকার তৈরি পোশাক বিদেশে রফতানি হচ্ছে। কিন্তু যারা এই পণ্য উৎপাদন করেন, সেই শ্রমিকরা খুচরা মূল্যের এক শতাংশও মজুরি পান না বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা। তারা বলেন, শ্রমিকরা সঠিক মজুরি পান না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল ওয়েস্টিনে কমপ্যাক্ট সাসটেইনাবিলিটির ওপর অনুষ্ঠিত এক গোল টেবিল আলোচনায় শ্রমিক নেতারা এ সব কথা বলেন।
শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার নিজের অভিজ্ঞতার একটি উদাহরণ টেনে বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত এক শ্রমিককে নিয়ে আমি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছিলাম। আমরা দুজন একটি কাপড়ের দোকানে গেলে ওই শ্রমিক বাংলাদেশে তৈরি একটি জিন্সের দাম কত, তা জানতে চান। তখন তাকে বলেছিলাম, এর দাম ৭৫ ডলার অর্থাৎ ৫০০০ টাকারও বেশি। ওই শ্রমিক তখন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, এটি কিভাবে সম্ভব? দেশে আমি এগুলো হাজার-হাজার পিস তৈরি করি। কিন্তু এর এক শতাংশও আমি মজুরি পাই না।
কল্পনা বলেন, বাংলাদেশ থেকে অধিক মূল্যে রিটেইলারদের পণ্য সংগ্রহ করা উচিত। যেন শ্রমিকরা আরও বেশি মজুরি পান।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, বিদেশি ক্রেতারা যদি প্রতি পিস পণ্যের জন্য বাংলাদেশকে বাড়তি ৮ টাকা (১০ সেন্ট) দেন, তবে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা খেয়াল করে দেখেছি, বাংলাদেশের সস্তা শ্রমের জন্য বিদেশি ক্রেতারা এখানে কাজ করতে আগ্রহী হন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা।
ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর প্রফেসর ফারহাত আনোয়ার বলেন, ন্যায্যমূল্যের বিষয়টি ভ্যালু চেইনের আলোকে থেকে দেখা উচিত। তিনি বলেন, যদি উৎপাদনকারীকে পণ্যের উৎপাদন মূল্য কমাতে বলা হয়, তবে মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ফারহাত আনোয়ার আরও বলেন, প্রতিটি উৎপাদনকারী লাভের জন্য খরচ কমাতে চান, কিন্তু বিদেশি ক্রেতারা যদি শুধু কম খরচের বিবেচনায় বাংলাদেশে আসেন, তবে এটি দুঃখজনক ঘটনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক কারখানা আছে। যেগুলো ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের কারখানা থেকে বেশি ভালো কর্মস্থল। কিন্তু তাদের নিয়ে কোনও আলোচনা হয় না।
বাংলাদেশ একটি ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে ফারহাত বলেন, এ সব কারখানা মালিককে খুঁজে বের করে সবাইকে তাদের কৃতিত্বের খবর জানাতে হবে। যেন করে সারাপৃথিবী তাদের কাছ থেকে শিখতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গত বছর প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা (৩২ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে।
/এমএনএইচ/








